সৌদির সঙ্গে মিল রেখে কাউখালীতে শতাধিক পরিবারের ঈদ উদযাপন
ওয়াদুদ খন্দকার, জনকথা
পিরোজপুর প্রতিনিধি:
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদ উদযাপন করেছে শতাধিক পরিবার। দেশের মূল ভূখণ্ডের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী একদিন পরে ঈদ উদযাপিত হলেও, স্থানীয় এই পরিবারগুলো বৈশ্বিক চাঁদ দেখার হিসাব অনুসরণ করে আগাম ঈদ পালন করে আসছেন।
ঈদের প্রধান জামাত ও মুসল্লিদের অংশগ্রহণ
কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী এলাকার ঐতিহ্যবাহী মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ এবং আইরন মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন স্থানীয় খতিব। কাউখালীর বেতকা, আইরন, শিয়ালকাঠী ও পারসাতুরিয়া গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবারের কয়েকশত পুরুষ ও নারী মুসল্লি এই জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পিরোজপুরের অন্যান্য উপজেলার চিত্র
কেবল কাউখালীই নয়, পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া এবং নাজিরপুর উপজেলাতেও এই আগাম ঈদের হাওয়া লেগেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে:
- মঠবাড়ীয়া উপজেলা: সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া, কচুবাড়িয়া, সাপলেজা, ঝাটিবুনিয়া, খেতাছিড়া ও চকরগাছিয়া—এই ৬টি গ্রামের প্রায় ৬ শতাধিক পরিবার ঈদ উদযাপন করে। সেখানকার খন্দকার বাড়ি ও হাজী ওয়াহেদ আলী হাওলাদার বাড়িতে পৃথক জামাত হয়।
- নাজিরপুর উপজেলা: শেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ও খেজুরতলা গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবার এই উৎসবে যোগ দেয়।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও ধর্মীয় বিশ্বাস
অনুসন্ধানে জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শুরেশ্বর দরবার শরীফের পীর হজরত মাওলানা আহমেদ আলী শুরেশ্বরীর অনুসারীরা বিগত প্রায় ১৫০ বছর ধরে এই নিয়ম মেনে আসছেন। তারা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বৈশ্বিক চাঁদ দেখার নির্দেশনা এবং ইসলামের মূল কেন্দ্র সৌদি আরবের হিসাবকে নির্ভুল মনে করে প্রতি বছর একদিন আগেই রোজা ও ঈদ পালন করেন।
ঈদের নামাজে আসা মুসল্লিরা জানান, শুরুতে স্থানীয় পর্যায়ে কিছুটা দ্বিমত ও তর্ক-বিতর্ক থাকলেও এখন এটি একটি নিয়মিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। নামাজ শেষে প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়িতে সেমাই, ফিরনিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরির মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশে দিনটি উপভোগ করছেন।