কালীগঞ্জে যুবদল-ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ছাত্রদলের ২ নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ
ওয়াদুদ খন্দকার, জনকথা:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদলের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার (২৭ মে) রাত ১০টার দিকে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন—কালীগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেরাজ হাসান রানা (২৬) এবং ছাত্রদলকর্মী সিয়াম (২৫)। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের দুজনের পায়েই গুলি লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্তুগাল থেকে দেশে ফেরেন স্থানীয় যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন। বুধবার রাতে তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন। এই খবর পেয়ে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমরান হোসেন সৈকতের শ্যালক মেরাজ হাসান রানা তার কর্মীদের নিয়ে সেখানে যান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ বাকবিতণ্ডা থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যুবদল নেতা তুহিনের গ্রুপ থেকেই এই গুলি ছোঁড়া হয়েছে। [1]
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুদিন আগে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমরান হোসেন সৈকত জামালপুর এলাকায় গেলে তুহিন গ্রুপের সদস্যরা তাকে লাঞ্ছিত করেন। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকি চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। অভিযুক্ত যুবদল নেতা তুহিনের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাবেয়া নার্গিস জাহান বলেন, "পায়ে গুলিবিদ্ধ দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছি।"
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।" [1, 2, 3, 4, 5]