ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

মাংস বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ভাঙ্গায় ঈদের নামাজ বর্জন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩০


প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মাংস বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ভাঙ্গায় ঈদের নামাজ বর্জন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩০

মাংস বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ভাঙ্গায় ঈদের নামাজ বর্জন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩০ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
 ওয়াদুদ খন্দকার দৈনিক জনকতা : ২৮ মে ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় কোরবানির গরুর মাংস বণ্টনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৮ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালীন বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকালে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। 

দ্বন্দ্বের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামে প্রতিবছর কোরবানির মাংসের একটি অংশ (দরিদ্রদের হক) এক জায়গায় জড়ো করে বণ্টন করার নিয়ম রয়েছে। এবার সেই মাংস স্থানীয় মসজিদে রেখে ভাগ করা হবে, নাকি যার যার বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে—তা নিয়ে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ঈদের নামাজের শুরুতেই গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

গ্রামের বাসিন্দারা মূলত দুটি পক্ষে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন আবু বকর মুন্সী (কামরুজ্জামান মোল্লা) এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মাংস বণ্টনের স্থান নির্ধারণের বিষয়টি সেই বিরোধে নতুন করে ঘি ঢালে। 

নামাজ বর্জন ও দেশীয় অস্ত্রে সংঘাত
মাংসের স্থান নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে ঈদগাহ ময়দানেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন ঈদের নামাজ আদায় না করেই মাঠ ছেড়ে চলে যান। এরপর তারা ঢাল, শড়কি ও ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। 

আহত ও ক্ষয়ক্ষতি
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘাতের ঘটনায় নারী ও পুরুষসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সুযোগে ৪ থেকে ৫টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। 

বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করায় সংঘর্ষ থামলেও এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের আটকে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।


বিষয় : সারাদেশ

দৈনিক জনকথা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


মাংস বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ভাঙ্গায় ঈদের নামাজ বর্জন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩০

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

মাংস বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ভাঙ্গায় ঈদের নামাজ বর্জন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩০ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
 ওয়াদুদ খন্দকার দৈনিক জনকতা : ২৮ মে ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় কোরবানির গরুর মাংস বণ্টনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৮ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালীন বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকালে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। 

দ্বন্দ্বের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামে প্রতিবছর কোরবানির মাংসের একটি অংশ (দরিদ্রদের হক) এক জায়গায় জড়ো করে বণ্টন করার নিয়ম রয়েছে। এবার সেই মাংস স্থানীয় মসজিদে রেখে ভাগ করা হবে, নাকি যার যার বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে—তা নিয়ে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ঈদের নামাজের শুরুতেই গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

গ্রামের বাসিন্দারা মূলত দুটি পক্ষে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন আবু বকর মুন্সী (কামরুজ্জামান মোল্লা) এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মাংস বণ্টনের স্থান নির্ধারণের বিষয়টি সেই বিরোধে নতুন করে ঘি ঢালে। 

নামাজ বর্জন ও দেশীয় অস্ত্রে সংঘাত
মাংসের স্থান নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে ঈদগাহ ময়দানেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন ঈদের নামাজ আদায় না করেই মাঠ ছেড়ে চলে যান। এরপর তারা ঢাল, শড়কি ও ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। 

আহত ও ক্ষয়ক্ষতি
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘাতের ঘটনায় নারী ও পুরুষসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সুযোগে ৪ থেকে ৫টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। 

বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করায় সংঘর্ষ থামলেও এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের আটকে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।



দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
মাংস বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ভাঙ্গায় ঈদের নামাজ বর্জন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩০
0:00 0:00
1.0x