ময়মনসিংহ-গাজীপুর মহাসড়কের পাশে পাশবিক নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্রী রাবেয়া; কিশোর গ্যাংয়ের বর্বরতা
গাজীপুর প্রতিনিধি:
বাবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মার্কেট শেষ করে বাড়ি ফিরছিল স্কুলছাত্রী রাবেয়া। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিলো এক ভয়ানক ট্র্যাজেডিতে। পথে ওত পেতে থাকা একদল কিশোর গ্যাং এর নৃশংস হামলার শিকার হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহ-গাজীপুর হাইওয়ে রোডের পাশে একটি নির্জন এলাকায়।
ঘটনার বিবরণ:
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাবেয়া তার বাবার সাথে ঈদের কেনাকাটা করতে বাজারে গিয়েছিল। কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে কিশোর গ্যাংয়ের একটি দল তাদের টার্গেট করে অনুসরণ করতে থাকে। কিছুদূর যাওয়ার পর একটি নির্জন রাস্তায় পৌঁছালে বখাটেরা রাবেয়া ও তার বাবার ওপর আচমকা সজোরে আক্রমণ করে। রাবেয়ার বাবার মাথায় লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। এই সুযোগে বখাটেরা রাবেয়াকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। [1]
উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা:
বেশ কিছুক্ষণ পর রাবেয়ার বাবার জ্ঞান ফিরলে তিনি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন এবং পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা মিলে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করার পর রাত আনুমানিক ১টার দিকে ময়মনসিংহ-গাজীপুর হাইওয়ে রোডের পাশে অচেতন ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রাবেয়াকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় সে মারাত্মকভাবে শারীরিক নির্যাতনের (ধর্ষণ) শিকার হয়ে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পূর্ব শত্রুতা ও বখাটেদের উৎপাত:
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাবেয়া আংশিক সুস্থ হয়ে জানায়, স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই কিশোর গ্যাংয়ের একজন সদস্য তাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত ও বিরক্ত করে আসছিল। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার সহযোগীদের নিয়ে এই জঘন্য বর্বরতা চালিয়েছে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও আইনগত পদক্ষেপ:
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন: ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা।