ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

বহুমাত্রিক রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়া: আমাদের ইতিহাসের এক কালজয়ী অধ্যায় ওয়াদুদ খন্দকার | দৈনিক জনকথা



বহুমাত্রিক রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়া: আমাদের ইতিহাসের এক কালজয়ী অধ্যায়  ওয়াদুদ খন্দকার | দৈনিক জনকথা

বহুমাত্রিক রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়া: আমাদের ইতিহাসের এক কালজয়ী অধ্যায়

ওয়াদুদ খন্দকার | দৈনিক জনকথা

৩০ মে বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর শোকের দিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক নির্মম সামরিক অভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণ করেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি এই মহান নেতাকে। 

স্বাধীনতার ঘোষণা ও রণাঙ্গনের বীরত্ব

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন জাতির এক চরম ক্রান্তিলগ্নে ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। তাঁর সেই বজ্রকণ্ঠ দিশেহারা বাঙালি জাতিকে আশার আলো দেখিয়েছিল এবং রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং জেড-ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে সম্মুখ সমরে তাঁর বীরত্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। 

বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জীবন

৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর জিয়াউর রহমান দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জীবন ঘটান। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া, বিচার বিভাগের মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক দল গঠনের উন্মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নতুন জীবন দান করেছিলেন। 

অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপ্লব

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেবল একজন সেনাপতি বা রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী সমাজ-সংস্কারক। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির মূল ভিত্তি। 

খাল খনন কর্মসূচি: দেশের কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সেচ সুবিধার জন্য তিনি দেশব্যাপী খাল খনন বিপ্লব শুরু করেন।

নির্ভরশীলতার অবসান: খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে স্বনির্ভর করার কার্যকর উদ্যোগ নেন।

রপ্তানি খাত তৈরি: জনশক্তি রপ্তানি এবং পোশাক শিল্পের (গার্মেন্টস সেক্টর) যে ভিত্তি তিনি স্থাপন করেছিলেন, তা আজও বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

যুব ও নারী উন্নয়ন: যুব সমাজ ও নারীদের উন্নয়নে তিনি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করেন। 

জাতীয়তাবাদের দর্শন ও সার্ক ভাবনা

বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে ধর্মীয় ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মিলিয়ে তিনি ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর কালজয়ী দর্শনের সূচনা করেন। এটি দেশের আপামর জনসাধারণকে এক সুতোয় গেঁথেছিল। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি বাংলাদেশকে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যান। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য ‘সার্ক’ (SAARC) গঠনের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনিই। 

এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়কের বিদায়

জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত, সৎ ও দেশপ্রেমিক মানুষ। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তাঁর সততা ও সাধারণ জীবনযাপন বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে তাঁকে আমাদের মাঝ থেকে কেড়ে নেওয়া হলেও, তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে এ দেশের মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। 

শেষ কথা

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে কেবল আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশই যথেষ্ট নয়; বরং তাঁর সততা, দেশপ্রেম, কর্মস্পৃহা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে বুকে ধারণ করাই হোক আমাদের আজকের দিনের অঙ্গীকার। এই মহান নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।




বিষয় : রাজনীতি

দৈনিক জনকথা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বহুমাত্রিক রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়া: আমাদের ইতিহাসের এক কালজয়ী অধ্যায় ওয়াদুদ খন্দকার | দৈনিক জনকথা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image

বহুমাত্রিক রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়া: আমাদের ইতিহাসের এক কালজয়ী অধ্যায়

ওয়াদুদ খন্দকার | দৈনিক জনকথা

৩০ মে বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর শোকের দিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক নির্মম সামরিক অভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণ করেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি এই মহান নেতাকে। 

স্বাধীনতার ঘোষণা ও রণাঙ্গনের বীরত্ব

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন জাতির এক চরম ক্রান্তিলগ্নে ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। তাঁর সেই বজ্রকণ্ঠ দিশেহারা বাঙালি জাতিকে আশার আলো দেখিয়েছিল এবং রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং জেড-ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে সম্মুখ সমরে তাঁর বীরত্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। 

বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জীবন

৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর জিয়াউর রহমান দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জীবন ঘটান। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া, বিচার বিভাগের মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক দল গঠনের উন্মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নতুন জীবন দান করেছিলেন। 

অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপ্লব

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেবল একজন সেনাপতি বা রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী সমাজ-সংস্কারক। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির মূল ভিত্তি। 

খাল খনন কর্মসূচি: দেশের কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সেচ সুবিধার জন্য তিনি দেশব্যাপী খাল খনন বিপ্লব শুরু করেন।

নির্ভরশীলতার অবসান: খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে স্বনির্ভর করার কার্যকর উদ্যোগ নেন।

রপ্তানি খাত তৈরি: জনশক্তি রপ্তানি এবং পোশাক শিল্পের (গার্মেন্টস সেক্টর) যে ভিত্তি তিনি স্থাপন করেছিলেন, তা আজও বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

যুব ও নারী উন্নয়ন: যুব সমাজ ও নারীদের উন্নয়নে তিনি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করেন। 

জাতীয়তাবাদের দর্শন ও সার্ক ভাবনা

বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে ধর্মীয় ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মিলিয়ে তিনি ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর কালজয়ী দর্শনের সূচনা করেন। এটি দেশের আপামর জনসাধারণকে এক সুতোয় গেঁথেছিল। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি বাংলাদেশকে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যান। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য ‘সার্ক’ (SAARC) গঠনের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনিই। 

এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়কের বিদায়

জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত, সৎ ও দেশপ্রেমিক মানুষ। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তাঁর সততা ও সাধারণ জীবনযাপন বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে তাঁকে আমাদের মাঝ থেকে কেড়ে নেওয়া হলেও, তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে এ দেশের মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। 

শেষ কথা

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে কেবল আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশই যথেষ্ট নয়; বরং তাঁর সততা, দেশপ্রেম, কর্মস্পৃহা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে বুকে ধারণ করাই হোক আমাদের আজকের দিনের অঙ্গীকার। এই মহান নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।





দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
বহুমাত্রিক রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়া: আমাদের ইতিহাসের এক কালজয়ী অধ্যায় ওয়াদুদ খন্দকার | দৈনিক জনকথা
0:00 0:00
1.0x