যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল না পেয়ে ভোলার দৌলতখানে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক
ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা
ভোলা প্রতিনিধি:
যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দিতে না পারায় ভোলার দৌলতখান উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামে ফিমা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামী সজিব ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। ঈদের দিন রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সজিবসহ তার পরিবারের সব সদস্য ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
নিহত ফিমা আক্তার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে দৌলতখানের কলাকোপা গ্রামের সজিবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল।
মোটরসাইকেল না পেয়ে নির্যাতন
নিহতের মা তাছনুর বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য ফিমার ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল। প্রায় দেড় বছর আগে ফিমার স্বামী সজিব একটি মোটরসাইকেল দাবি করেন। কিন্তু দরিদ্র ও অসহায় হওয়ায় টাকার অভাবে ফিমার পরিবার মোটরসাইকেলটি কিনে দিতে পারেননি। মোটরসাইকেল না পেয়ে সজিব প্রায়ই ফিমার ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে এলাকায় কয়েকবার স্থানীয়ভাবে শালিশ বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সজিবের নির্যাতন থামেনি।
ঈদের দিন রাতে নির্মম হত্যাকাণ্ড
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের তিনদিন আগেও মোটরসাইকেলের এই বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। এই ঘটনার জের ধরে ঈদের দিন বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী সজিব ও তার পরিবারের সদস্যরা ফিমাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।
ফিমার ভাই জানান, পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে ঘাতক সজিব ও তার পরিবারের লোকজন রাতারাতি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিমার মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশি তদন্ত ও মামলা
এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে ঘাতক সজিব ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।