ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

মাদকের বিষবাষ্প ও তুচ্ছতায় প্রাণহানি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা আমাদের কী বার্তা দেয়?



মাদকের বিষবাষ্প ও তুচ্ছতায় প্রাণহানি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা আমাদের কী বার্তা দেয়?

মাদকের বিষবাষ্প ও তুচ্ছতায় প্রাণহানি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা আমাদের কী বার্তা দেয়?
— ওয়াদুদ খন্দকার

‘ইয়াবা কেনার টাকা দিয়ে বিস্কুট কেনা’— শিরোনামটি পড়তে অবিশ্বাস্য এবং হাস্যকর মনে হলেও, এর পেছনের সত্যটি চরম মর্মান্তিক ও বেদনার। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা উত্তরপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা আমাদের সমাজ ও পরিবারের সামনে এক ভয়ংকর বাস্তবতাকে উন্মোচন করেছে। কয়েক টাকার বিস্কুট নয়, এই সংঘর্ষের পেছনে লুকিয়ে আছে মাদক, অপরাধের বিস্তার এবং সামাজিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ চিত্র। 

কী ঘটেছিল সেদিন?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে উত্তরপাড়া এলাকার সজীব মিয়া স্থানীয় এক যুবককে ইয়াবা কিনে আনার জন্য ৩০০ টাকা দেন। কিন্তু মাদক না এনে সেই টাকা দিয়ে ওই যুবক বিস্কুট কিনে খেয়ে ফেলে। মাদক বিক্রেতা বা মাদক সেবনের জন্য দেওয়া টাকা এভাবে অন্য খাতে খরচ হওয়ায় সজীব ক্ষুব্ধ হন। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকার দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্রের এই ঝনঝনানি ও সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ১৫ বছর বয়সী কিশোর রায়হান। গুরুতর আহত হন আরও ১৫ জনের মতো মানুষ। 

মূল সমস্যা কোথায়?
এই নির্মম ঘটনা প্রমাণ করে, আমাদের যুবসমাজ মাদকের কতটা ভয়ংকর বিষবাষ্পের মধ্যে নিমজ্জিত। একটি কিশোর বা যুবকের কাছে মাদক কতটা সহজলভ্য হলে, ৩০০ টাকা দিয়ে ইয়াবা আনার জন্য তাকে এভাবে ব্যবহার করা হয়? সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অপরাধের এই জগত বা মাদকের লেনদেনের মতো বিষয়গুলো এখন গ্রামীণ জনপদেও কতটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সামান্য একটি বিস্কুট খাওয়ার মতো তুচ্ছ কারণে এতগুলো মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়া, রক্ত ঝরা এবং একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না।

মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জরুরি
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের মতো করে কাজ করছে, কিন্তু শুধু পুলিশ দিয়ে মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ। আমাদের সন্তানদের সঙ্গী-সাথী এবং তারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে— সেদিকে অভিভাবকদের তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি, পাড়ায় পাড়ায় যুবসমাজকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা মাদকের দিকে পা না বাড়ায়।

আজ রায়হানের মতো একটি কিশোরের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেল। এই দায়ভার শুধু একটি সংঘর্ষের নয়, বরং পুরো সমাজের। যদি সময়মতো আমরা এই মাদক নামক মহামারীকে রুখতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক তুচ্ছ কারণে আমাদের আরও অনেক প্রাণ হারাতে হবে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হলে এখনই সময় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। 

বিষয় : জেলার খবর

দৈনিক জনকথা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


মাদকের বিষবাষ্প ও তুচ্ছতায় প্রাণহানি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা আমাদের কী বার্তা দেয়?

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image

মাদকের বিষবাষ্প ও তুচ্ছতায় প্রাণহানি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা আমাদের কী বার্তা দেয়?
— ওয়াদুদ খন্দকার

‘ইয়াবা কেনার টাকা দিয়ে বিস্কুট কেনা’— শিরোনামটি পড়তে অবিশ্বাস্য এবং হাস্যকর মনে হলেও, এর পেছনের সত্যটি চরম মর্মান্তিক ও বেদনার। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা উত্তরপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা আমাদের সমাজ ও পরিবারের সামনে এক ভয়ংকর বাস্তবতাকে উন্মোচন করেছে। কয়েক টাকার বিস্কুট নয়, এই সংঘর্ষের পেছনে লুকিয়ে আছে মাদক, অপরাধের বিস্তার এবং সামাজিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ চিত্র। 

কী ঘটেছিল সেদিন?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে উত্তরপাড়া এলাকার সজীব মিয়া স্থানীয় এক যুবককে ইয়াবা কিনে আনার জন্য ৩০০ টাকা দেন। কিন্তু মাদক না এনে সেই টাকা দিয়ে ওই যুবক বিস্কুট কিনে খেয়ে ফেলে। মাদক বিক্রেতা বা মাদক সেবনের জন্য দেওয়া টাকা এভাবে অন্য খাতে খরচ হওয়ায় সজীব ক্ষুব্ধ হন। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকার দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্রের এই ঝনঝনানি ও সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ১৫ বছর বয়সী কিশোর রায়হান। গুরুতর আহত হন আরও ১৫ জনের মতো মানুষ। 

মূল সমস্যা কোথায়?
এই নির্মম ঘটনা প্রমাণ করে, আমাদের যুবসমাজ মাদকের কতটা ভয়ংকর বিষবাষ্পের মধ্যে নিমজ্জিত। একটি কিশোর বা যুবকের কাছে মাদক কতটা সহজলভ্য হলে, ৩০০ টাকা দিয়ে ইয়াবা আনার জন্য তাকে এভাবে ব্যবহার করা হয়? সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অপরাধের এই জগত বা মাদকের লেনদেনের মতো বিষয়গুলো এখন গ্রামীণ জনপদেও কতটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সামান্য একটি বিস্কুট খাওয়ার মতো তুচ্ছ কারণে এতগুলো মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়া, রক্ত ঝরা এবং একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না।

মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জরুরি
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের মতো করে কাজ করছে, কিন্তু শুধু পুলিশ দিয়ে মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ। আমাদের সন্তানদের সঙ্গী-সাথী এবং তারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে— সেদিকে অভিভাবকদের তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি, পাড়ায় পাড়ায় যুবসমাজকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা মাদকের দিকে পা না বাড়ায়।

আজ রায়হানের মতো একটি কিশোরের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেল। এই দায়ভার শুধু একটি সংঘর্ষের নয়, বরং পুরো সমাজের। যদি সময়মতো আমরা এই মাদক নামক মহামারীকে রুখতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক তুচ্ছ কারণে আমাদের আরও অনেক প্রাণ হারাতে হবে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হলে এখনই সময় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। 



দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
মাদকের বিষবাষ্প ও তুচ্ছতায় প্রাণহানি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা আমাদের কী বার্তা দেয়?
0:00 0:00
1.0x