ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছাঁটাই: স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নতুন মাস্টারস্ট্রোক



নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছাঁটাই: স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নতুন মাস্টারস্ট্রোক

নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছাঁটাই: স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নতুন মাস্টারস্ট্রোক
ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত এবং স্বচ্ছ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য একটি নতুন 'অঙ্গীকারনামা' বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে কমিশন। এই আইনি কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো—নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নেতাকর্মী যেন ছদ্মবেশে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে, আওয়ামী লীগসহ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কোনো স্তরের নেতা-কর্মী যাতে স্থানীয় সরকারের কোনো স্তরেই প্রার্থী হতে না পারেন, সেই পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতেই এই নতুন বিধিমালার অবতারণা।

অঙ্গীকারনামার মূল বার্তা ও কঠোরতা

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সাথে একটি নির্দিষ্ট হলফনামা বা অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। সেখানে প্রার্থীকে লিখিতভাবে ঘোষণা করতে হবে যে—

  • তিনি কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল, উপদল বা সংগঠনের বর্তমান সদস্য নন।
  • অতীতে এই ধরনের কোনো সংগঠনের নীতি নির্ধারণী বা সক্রিয় পদে যুক্ত ছিলেন না।
  • তার নির্বাচনী প্রচারণায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো প্রতীক, ব্যানার বা আদর্শ ব্যবহার করা হবে না।

যদি কোনো প্রার্থী এই অঙ্গীকারনামায় মিথ্যা তথ্য দেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে যেকোনো মুহূর্তে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে। এমনকি নির্বাচনের পর তথ্য গোপন করার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিজয়ী গ্যাজেট বাতিলসহ আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

কেন এই উদ্যোগ?

বিগত দিনগুলোতে দেখা গেছে, মূল দল নিষিদ্ধ বা নিষ্ক্রিয় হলেও স্থানীয় নির্বাচনে অনেকেই 'স্বতন্ত্র' বা অন্য কোনো ব্যানারে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় সরকার কাঠামোতে নিষিদ্ধ সংগঠনের এই অনধিকার প্রবেশ ঠেকাতেই ইসি এই ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালু করছে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কালো তালিকাভুক্ত দলগুলোর রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। একই সাথে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকে সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়ন

ইসির এই প্রস্তাবনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এটিকে স্বাগত জানালেও মাঠপর্যায়ে এটি শতভাগ নির্ভুলভাবে বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ—

  • ছদ্মবেশী প্রার্থীদের সঠিক রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করতে শক্তিশালী গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে হবে।
  • স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও সততার সাথে এই যাছাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তবে সমস্ত চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই নতুন ‘ফিল্টারিং’ নীতি যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। সন্ত্রাস ও নিষিদ্ধ রাজনীতির ছায়া থেকে মুক্ত হয়ে স্থানীয় সরকারগুলো প্রকৃত অর্থেই জনগণের কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারবে।


দৈনিক জনকথা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছাঁটাই: স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নতুন মাস্টারস্ট্রোক

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছাঁটাই: স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নতুন মাস্টারস্ট্রোক
ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত এবং স্বচ্ছ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য একটি নতুন 'অঙ্গীকারনামা' বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে কমিশন। এই আইনি কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো—নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নেতাকর্মী যেন ছদ্মবেশে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে, আওয়ামী লীগসহ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কোনো স্তরের নেতা-কর্মী যাতে স্থানীয় সরকারের কোনো স্তরেই প্রার্থী হতে না পারেন, সেই পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতেই এই নতুন বিধিমালার অবতারণা।

অঙ্গীকারনামার মূল বার্তা ও কঠোরতা

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সাথে একটি নির্দিষ্ট হলফনামা বা অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। সেখানে প্রার্থীকে লিখিতভাবে ঘোষণা করতে হবে যে—

  • তিনি কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল, উপদল বা সংগঠনের বর্তমান সদস্য নন।
  • অতীতে এই ধরনের কোনো সংগঠনের নীতি নির্ধারণী বা সক্রিয় পদে যুক্ত ছিলেন না।
  • তার নির্বাচনী প্রচারণায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো প্রতীক, ব্যানার বা আদর্শ ব্যবহার করা হবে না।

যদি কোনো প্রার্থী এই অঙ্গীকারনামায় মিথ্যা তথ্য দেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে যেকোনো মুহূর্তে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে। এমনকি নির্বাচনের পর তথ্য গোপন করার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিজয়ী গ্যাজেট বাতিলসহ আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

কেন এই উদ্যোগ?

বিগত দিনগুলোতে দেখা গেছে, মূল দল নিষিদ্ধ বা নিষ্ক্রিয় হলেও স্থানীয় নির্বাচনে অনেকেই 'স্বতন্ত্র' বা অন্য কোনো ব্যানারে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় সরকার কাঠামোতে নিষিদ্ধ সংগঠনের এই অনধিকার প্রবেশ ঠেকাতেই ইসি এই ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালু করছে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কালো তালিকাভুক্ত দলগুলোর রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। একই সাথে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকে সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়ন

ইসির এই প্রস্তাবনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এটিকে স্বাগত জানালেও মাঠপর্যায়ে এটি শতভাগ নির্ভুলভাবে বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ—

  • ছদ্মবেশী প্রার্থীদের সঠিক রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করতে শক্তিশালী গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে হবে।
  • স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও সততার সাথে এই যাছাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তবে সমস্ত চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই নতুন ‘ফিল্টারিং’ নীতি যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। সন্ত্রাস ও নিষিদ্ধ রাজনীতির ছায়া থেকে মুক্ত হয়ে স্থানীয় সরকারগুলো প্রকৃত অর্থেই জনগণের কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারবে।



দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছাঁটাই: স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নতুন মাস্টারস্ট্রোক
0:00 0:00
1.0x