ঢাকা    সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

খুলনায় মাদ্রাসায় ৮ বছরের শিশুকে বর্বর নির্যাতন: শিক্ষকের নিষ্ঠুরতা ও বিচারের আকুতি



খুলনায় মাদ্রাসায় ৮ বছরের শিশুকে বর্বর নির্যাতন: শিক্ষকের নিষ্ঠুরতা ও বিচারের আকুতি

খুলনায় মাদ্রাসায় ৮ বছরের শিশুকে বর্বর নির্যাতন: শিক্ষকের নিষ্ঠুরতা ও বিচারের আকুতি 

খুলনা প্রতিনিধি: পবিত্র কুরআন শিক্ষার পবিত্র স্থান হিসেবে যে মাদ্রাসাকে বেছে নিয়েছিলেন অভিভাবকেরা, সেখানেই এক ৮ বছরের নিষ্পাপ শিশু শিকার হলো শিক্ষকের চরম পাশবিক ও অমানবিক নির্যাতনের। খুলনার সোনাডাঙ্গার ডাক্তার পাড়া এলাকার নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি (নূরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা)-র এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছর বয়সী এক হেফজখানার শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশুটির মাথায় রক্ত জমাট (Brain Blood Clot) বেঁধে গেছে এবং সে বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমান পলাতক রয়েছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবার এই নির্মমতার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।ঘটনার বিবরণ ও নির্মমতার চিত্রপারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমান শিশু শিক্ষার্থীটিকে সামান্য কারণে বা বিনাদোষে বেত দিয়ে পৈশাচিক কায়দায় মারধর করেন। মারধরের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে শিশুটির পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন ফুটে ওঠে এবং বিশেষ করে মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে।সবচেয়ে অমানবিক বিষয় হলো, শিশুটিকে এত বড় নির্যাতনের পরও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত শিক্ষক তার পরিবারকে কিছুই জানাননি। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর অন্যান্য মাধ্যমে খবর পেয়ে শিশুটির বাবা তাকে ওই মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করেন।চিকিৎসার বর্তমান অবস্থাউদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। নির্যাতনের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর করা মেডিকেল টেস্টে চিকিৎসকেরা জানান, অতিরিক্ত মারধরের কারণে শিশুটির মাথায় রক্ত জমাট বেঁধেছে (Brain Blood Clot) এবং প্রধান একটি রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওষুধে কাজ না হলে শিশুটির মাথায় অস্ত্রোপচার (Surgery) করতে হতে পারে। বর্তমানে শিশুটি চরম মানসিক ও শারীরিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে এবং ঘুমের ঘোরেও ভয়ে আঁতকে উঠছে।পরিবারের আকুতি ও প্রশাসনের ভূমিকাএই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভে দিন কাটাচ্ছে। শিশুটির পরিবার প্রশাসনের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, "আমরা আমাদের সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলাম, কোনো কসাইখানায় নয়। এই নিষ্ঠুর জালেম শিক্ষকের এমন বিচার হতে হবে যেন আর কোনো শিক্ষকের কোনো শিশুর গায়ে হাত তোলার সাহস না হয়।"এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমান মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে; অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।শিশু নির্যাতন রোধে সামাজিক সচেতনতা জরুরিশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে মাঝেমধ্যেই এমন শিশু নির্যাতনের ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু অন্ধকার মানসিকতার শিক্ষকের কারণে কোমলমতি শিশুদের জীবন আজ বিপন্ন। খুলনার ডাক্তার পাড়ার এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, মাদ্রাসাগুলোতে শিশু সুরক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।এই পাশবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে খুলনার সচেতন নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অপরাধী শিক্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ইসমাইলকে এমন

দৈনিক জনকথা

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


খুলনায় মাদ্রাসায় ৮ বছরের শিশুকে বর্বর নির্যাতন: শিক্ষকের নিষ্ঠুরতা ও বিচারের আকুতি

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

খুলনায় মাদ্রাসায় ৮ বছরের শিশুকে বর্বর নির্যাতন: শিক্ষকের নিষ্ঠুরতা ও বিচারের আকুতি 

খুলনা প্রতিনিধি: পবিত্র কুরআন শিক্ষার পবিত্র স্থান হিসেবে যে মাদ্রাসাকে বেছে নিয়েছিলেন অভিভাবকেরা, সেখানেই এক ৮ বছরের নিষ্পাপ শিশু শিকার হলো শিক্ষকের চরম পাশবিক ও অমানবিক নির্যাতনের। খুলনার সোনাডাঙ্গার ডাক্তার পাড়া এলাকার নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি (নূরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা)-র এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছর বয়সী এক হেফজখানার শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশুটির মাথায় রক্ত জমাট (Brain Blood Clot) বেঁধে গেছে এবং সে বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমান পলাতক রয়েছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবার এই নির্মমতার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।ঘটনার বিবরণ ও নির্মমতার চিত্রপারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমান শিশু শিক্ষার্থীটিকে সামান্য কারণে বা বিনাদোষে বেত দিয়ে পৈশাচিক কায়দায় মারধর করেন। মারধরের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে শিশুটির পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন ফুটে ওঠে এবং বিশেষ করে মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে।সবচেয়ে অমানবিক বিষয় হলো, শিশুটিকে এত বড় নির্যাতনের পরও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত শিক্ষক তার পরিবারকে কিছুই জানাননি। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর অন্যান্য মাধ্যমে খবর পেয়ে শিশুটির বাবা তাকে ওই মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করেন।চিকিৎসার বর্তমান অবস্থাউদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। নির্যাতনের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর করা মেডিকেল টেস্টে চিকিৎসকেরা জানান, অতিরিক্ত মারধরের কারণে শিশুটির মাথায় রক্ত জমাট বেঁধেছে (Brain Blood Clot) এবং প্রধান একটি রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওষুধে কাজ না হলে শিশুটির মাথায় অস্ত্রোপচার (Surgery) করতে হতে পারে। বর্তমানে শিশুটি চরম মানসিক ও শারীরিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে এবং ঘুমের ঘোরেও ভয়ে আঁতকে উঠছে।পরিবারের আকুতি ও প্রশাসনের ভূমিকাএই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভে দিন কাটাচ্ছে। শিশুটির পরিবার প্রশাসনের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, "আমরা আমাদের সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলাম, কোনো কসাইখানায় নয়। এই নিষ্ঠুর জালেম শিক্ষকের এমন বিচার হতে হবে যেন আর কোনো শিক্ষকের কোনো শিশুর গায়ে হাত তোলার সাহস না হয়।"এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমান মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে; অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।শিশু নির্যাতন রোধে সামাজিক সচেতনতা জরুরিশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে মাঝেমধ্যেই এমন শিশু নির্যাতনের ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু অন্ধকার মানসিকতার শিক্ষকের কারণে কোমলমতি শিশুদের জীবন আজ বিপন্ন। খুলনার ডাক্তার পাড়ার এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, মাদ্রাসাগুলোতে শিশু সুরক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।এই পাশবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে খুলনার সচেতন নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অপরাধী শিক্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ইসমাইলকে এমন


দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
খুলনায় মাদ্রাসায় ৮ বছরের শিশুকে বর্বর নির্যাতন: শিক্ষকের নিষ্ঠুরতা ও বিচারের আকুতি
0:00 0:00
1.0x