ঢাকা    সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

অভিযানে পুলিশ পাঠিয়ে ওসির বাসভবনে মাদক সম্রাটের গভীর রাতের বৈঠক!



অভিযানে পুলিশ পাঠিয়ে ওসির বাসভবনে মাদক সম্রাটের গভীর রাতের বৈঠক!

অভিযানে পুলিশ পাঠিয়ে ওসির বাসভবনে মাদক সম্রাটের গভীর রাতের বৈঠক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে বেড়ানোর গল্প পুরানো। কিন্তু আসামি ধরার জন্য একদিকে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে, অন্যদিকে খোদ থানা কমপ্লেক্সের ভেতরে নিজের সরকারি বাসভবনে সেই পলাতক আসামির সঙ্গেই যদি পুলিশ কর্মকর্তা গোপন বৈঠক করেন, তবে তা রূপকথাকেও হার মানায়। ঠিক এমনই এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে সাভার মডেল থানায়। 

অভিযোগ উঠেছে, সাভারের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারে একদিকে যখন পুলিশের বিশেষ দল অভিযানে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ভিন্ন পথ দিয়ে শামীমকে নিজের কোয়ার্টারে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলি। 

গভীর রাতের দেড় ঘণ্টাব্যাপী 'গোপন মিশন'

অনুসন্ধানে জানা যায়, গুরুতর অপরাধের মামলার আসামি শামীম রেজাকে ধরতে যখন সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছিল, তখন খোদ থানা কমপ্লেক্সেই ওসির বাসভবনে প্রবেশ করেন শামীম। রাত ২টার পর শুরু হওয়া এই বৈঠক চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা। পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ থাকা একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কীভাবে কঠোর নিরাপত্তার থানা কমপ্লেক্সে ঢুকে ওসির শয়নকক্ষে বৈঠক করে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে গেলেন, তা নিয়ে খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেই তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 

ইয়াবা সেবন ও নিয়মিত সরবরাহের অভিযোগ

সূত্রমতে, সাভারের এই মাদক চক্রটির সঙ্গে তৎকালীন ওসি আরমান আলির সখ্যতা ছিল দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, ওসির ফরমায়েশ ও চাহিদা অনুযায়ী থানা কমপ্লেক্সে নিয়মিত ইয়াবার চালান সরবরাহ করতেন এই শামীম রেজা। মাদক ব্যবসায়ী শামীমের সঙ্গে সখ্যের কারণে ওসি নিজেও নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এই অনৈতিক সম্পর্কের কারণেই বারবার পার পেয়ে যেতেন সাভারের এই মাদক সম্রাট।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ওসির প্রত্যাহার

সম্প্রতি সাভারের রাজাশন এলাকায় মাদক ব্যবসার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেশ টিভি ও এসএ টিভির তিন সাংবাদিক মাদক সম্রাট শামীম রেজা ও তার গুণ্ডাবাহিনীর নৃশংস হামলার শিকার হন। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। দায়িত্ব অবহেলা, সাংবাদিকদের ওপর হামলার আসামিকে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থতা এবং মাদক ব্যবসায়ীর সাথে গোপন আঁতাতের প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওসি আরমান আলিকে সাভার মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। একই সাথে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাভার থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) এবং দুইজন সহকারী উপপরিদর্শককেও (এএসআই) ক্লোজ করা হয়। 

এলাকায় ক্ষোভ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—এমন প্রশ্ন এখন সাভারের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল থানা থেকে প্রত্যাহার বা ক্লোজ করাই যথেষ্ট নয়। একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া এবং তাকে আশ্রয় দেওয়া সাবেক ওসি আরমান আলির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। 


দৈনিক জনকথা

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


অভিযানে পুলিশ পাঠিয়ে ওসির বাসভবনে মাদক সম্রাটের গভীর রাতের বৈঠক!

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

অভিযানে পুলিশ পাঠিয়ে ওসির বাসভবনে মাদক সম্রাটের গভীর রাতের বৈঠক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে বেড়ানোর গল্প পুরানো। কিন্তু আসামি ধরার জন্য একদিকে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে, অন্যদিকে খোদ থানা কমপ্লেক্সের ভেতরে নিজের সরকারি বাসভবনে সেই পলাতক আসামির সঙ্গেই যদি পুলিশ কর্মকর্তা গোপন বৈঠক করেন, তবে তা রূপকথাকেও হার মানায়। ঠিক এমনই এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে সাভার মডেল থানায়। 

অভিযোগ উঠেছে, সাভারের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারে একদিকে যখন পুলিশের বিশেষ দল অভিযানে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ভিন্ন পথ দিয়ে শামীমকে নিজের কোয়ার্টারে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলি। 

গভীর রাতের দেড় ঘণ্টাব্যাপী 'গোপন মিশন'

অনুসন্ধানে জানা যায়, গুরুতর অপরাধের মামলার আসামি শামীম রেজাকে ধরতে যখন সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছিল, তখন খোদ থানা কমপ্লেক্সেই ওসির বাসভবনে প্রবেশ করেন শামীম। রাত ২টার পর শুরু হওয়া এই বৈঠক চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা। পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ থাকা একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কীভাবে কঠোর নিরাপত্তার থানা কমপ্লেক্সে ঢুকে ওসির শয়নকক্ষে বৈঠক করে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে গেলেন, তা নিয়ে খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেই তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 

ইয়াবা সেবন ও নিয়মিত সরবরাহের অভিযোগ

সূত্রমতে, সাভারের এই মাদক চক্রটির সঙ্গে তৎকালীন ওসি আরমান আলির সখ্যতা ছিল দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, ওসির ফরমায়েশ ও চাহিদা অনুযায়ী থানা কমপ্লেক্সে নিয়মিত ইয়াবার চালান সরবরাহ করতেন এই শামীম রেজা। মাদক ব্যবসায়ী শামীমের সঙ্গে সখ্যের কারণে ওসি নিজেও নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এই অনৈতিক সম্পর্কের কারণেই বারবার পার পেয়ে যেতেন সাভারের এই মাদক সম্রাট।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ওসির প্রত্যাহার

সম্প্রতি সাভারের রাজাশন এলাকায় মাদক ব্যবসার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেশ টিভি ও এসএ টিভির তিন সাংবাদিক মাদক সম্রাট শামীম রেজা ও তার গুণ্ডাবাহিনীর নৃশংস হামলার শিকার হন। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। দায়িত্ব অবহেলা, সাংবাদিকদের ওপর হামলার আসামিকে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থতা এবং মাদক ব্যবসায়ীর সাথে গোপন আঁতাতের প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওসি আরমান আলিকে সাভার মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। একই সাথে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাভার থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) এবং দুইজন সহকারী উপপরিদর্শককেও (এএসআই) ক্লোজ করা হয়। 

এলাকায় ক্ষোভ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—এমন প্রশ্ন এখন সাভারের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল থানা থেকে প্রত্যাহার বা ক্লোজ করাই যথেষ্ট নয়। একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া এবং তাকে আশ্রয় দেওয়া সাবেক ওসি আরমান আলির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। 



দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
অভিযানে পুলিশ পাঠিয়ে ওসির বাসভবনে মাদক সম্রাটের গভীর রাতের বৈঠক!
0:00 0:00
1.0x