গাজীপুরের কালীগঞ্জে রেকর্ড লোডশেডিং: ছাতিয়ানী গ্রামে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা লাটে, চরম ক্ষোভ
ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা:
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামে এখন রূপকথার অন্ধকারের রাজত্ব। তীব্র তাদদাহের মধ্যে এলাকাটিতে চলছে রেকর্ড ভাঙা লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিংহভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। এর ফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীরা। আলো আর বাতাসের অভাবে তাদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
অন্ধকারে ডুবছে ভবিষ্যৎ
ছাতিয়ানী গ্রামের প্রতিটি ঘরে এখন শিক্ষার্থীদের হাহাকার। লোডশেডিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নেই। দিন হোক বা রাত, হুটহাট বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে আসার নাম থাকে না।
পড়াশোনায় স্থবিরতা: সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় টেবিলে বসতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।
মোমবাতি ও চার্জার লাইটের সংকট: একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে চার্জার লাইটও চার্জ হচ্ছে না। মোমবাতির তীব্র আলোয় বেশিক্ষণ পড়া সম্ভব হয় না, চোখ ও মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়।
অনলাইন ক্লাসে বাধা: বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিভ্রাটের কারণে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস ও অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারছে না।
তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি
বিদ্যুৎহীন অবস্থায় এই তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা শুধু যে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে তা নয়, তাদের স্বাস্থ্যও ভেঙে পড়ছে। ঘুমহীন রাত আর অতিরিক্ত গরমে অনেকেই ডায়রিয়া, জ্বর ও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে আগামী পরীক্ষাগুলোতে তারা কীভাবে অংশ নেবে, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও দাবি
ছাতিয়ানী গ্রামের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দাবি—উপজেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় এই গ্রামে বৈষম্যমূলকভাবে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। বারবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি।
অন্ধকার থেকে মুক্তি এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জোর দাবি জানাচ্ছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারেই হারিয়ে যাবে।