ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

মাদক মুক্ত সমাজ গড়ি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা — ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা



মাদক মুক্ত সমাজ গড়ি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
— ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা

মাদক এক নীরব ঘাতক। যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে না পারলে একটি দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যায়। দেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজকে কেন্দ্র করে মাদকবিরোধী ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) করণীয়

  • সচেতনতা বৃদ্ধি: নিয়মিত অ্যাসেম্বলিতে মাদকের কুফল এবং এর ভয়াবহতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত ও গঠনমূলক আলোচনা করতে হবে।
  • সহশিক্ষা কার্যক্রম: মাদকবিরোধী কুইজ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পোস্টার ডিজাইন ও নাটিকা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
  • পরামর্শ কেন্দ্র: শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং হতাশা দূর করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ কাউন্সিলরের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
  • সহযোগিতার পরিবেশ: বন্ধুদের মধ্যে কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাকে দূরে না ঠেলে, সহমর্মিতার সাথে সংশোধনের সুযোগ করে দিতে হবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (মসজিদ ও মাদ্রাসা) করণীয়

  • খুতবায় আলোচনা: জুমার খুতবায় নিয়মিত মাদকের ভয়াবহতা ও ইসলামে এর কঠোর নিষেধাজ্ঞার দিকগুলো তুলে ধরতে হবে।
  • নৈতিক শিক্ষা: মাদ্রাসা ও মক্তবের শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই হালাল-হারামের স্পষ্ট ও ধর্মীয় ধারণা প্রদান করতে হবে।
  • পারিবারিক সচেতনতা: সন্তানদের সঠিক পথে রাখতে ধর্মীয় নির্দেশনা অনুযায়ী অভিভাবকদের দায়িত্বশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে।
  • সামাজিক প্রতিরোধ: মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবকদের সামাজিকভাবে বর্জন করার জন্য সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। 

মাদকের প্রধান ক্ষতিকর দিকসমূহ

  • শারীরিক ক্ষতি: মানবদেহের লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক ও হার্টের স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতি করে।
  • মানসিক ক্ষতি: তীব্র হতাশা, স্মৃতিভ্রম, মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • পারিবারিক ধ্বংস: পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং পারিবারিক সহিংসতা সৃষ্টি করে।
  • সামাজিক অবক্ষয়: চুরি, ছিনতাই, খুন ও রাহাজানিসহ নানা ধরনের অপরাধের মূল উৎস হিসেবে কাজ করে। 

চূড়ান্ত বার্তা: "মাদককে না বলুন"
একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে শিক্ষক, ইমাম, অভিভাবক ও তরুণ সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো পরিবার ও রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেয়। তাই আজই শপথ নিন— নিজে মাদক থেকে দূরে থাকুন, অন্যকেও দূরে রাখুন। 

বিষয় : মাদক

দৈনিক জনকথা

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


মাদক মুক্ত সমাজ গড়ি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা — ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

মাদক মুক্ত সমাজ গড়ি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
— ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা

মাদক এক নীরব ঘাতক। যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে না পারলে একটি দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যায়। দেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজকে কেন্দ্র করে মাদকবিরোধী ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) করণীয়

  • সচেতনতা বৃদ্ধি: নিয়মিত অ্যাসেম্বলিতে মাদকের কুফল এবং এর ভয়াবহতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত ও গঠনমূলক আলোচনা করতে হবে।
  • সহশিক্ষা কার্যক্রম: মাদকবিরোধী কুইজ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পোস্টার ডিজাইন ও নাটিকা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
  • পরামর্শ কেন্দ্র: শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং হতাশা দূর করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ কাউন্সিলরের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
  • সহযোগিতার পরিবেশ: বন্ধুদের মধ্যে কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাকে দূরে না ঠেলে, সহমর্মিতার সাথে সংশোধনের সুযোগ করে দিতে হবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (মসজিদ ও মাদ্রাসা) করণীয়

  • খুতবায় আলোচনা: জুমার খুতবায় নিয়মিত মাদকের ভয়াবহতা ও ইসলামে এর কঠোর নিষেধাজ্ঞার দিকগুলো তুলে ধরতে হবে।
  • নৈতিক শিক্ষা: মাদ্রাসা ও মক্তবের শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই হালাল-হারামের স্পষ্ট ও ধর্মীয় ধারণা প্রদান করতে হবে।
  • পারিবারিক সচেতনতা: সন্তানদের সঠিক পথে রাখতে ধর্মীয় নির্দেশনা অনুযায়ী অভিভাবকদের দায়িত্বশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে।
  • সামাজিক প্রতিরোধ: মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবকদের সামাজিকভাবে বর্জন করার জন্য সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। 

মাদকের প্রধান ক্ষতিকর দিকসমূহ

  • শারীরিক ক্ষতি: মানবদেহের লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক ও হার্টের স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতি করে।
  • মানসিক ক্ষতি: তীব্র হতাশা, স্মৃতিভ্রম, মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • পারিবারিক ধ্বংস: পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং পারিবারিক সহিংসতা সৃষ্টি করে।
  • সামাজিক অবক্ষয়: চুরি, ছিনতাই, খুন ও রাহাজানিসহ নানা ধরনের অপরাধের মূল উৎস হিসেবে কাজ করে। 

চূড়ান্ত বার্তা: "মাদককে না বলুন"
একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে শিক্ষক, ইমাম, অভিভাবক ও তরুণ সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো পরিবার ও রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেয়। তাই আজই শপথ নিন— নিজে মাদক থেকে দূরে থাকুন, অন্যকেও দূরে রাখুন। 


দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
মাদক মুক্ত সমাজ গড়ি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা — ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা
0:00 0:00
1.0x