ঢাকা    শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

সরকারি হাসপাতালে ফ্রি'তে সকল টেস্ট চালু করতে হবে



সরকারি হাসপাতালে ফ্রি'তে সকল টেস্ট চালু করতে হবে

ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা: 

স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। একটি সুস্থ জাতিই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সামান্য রক্ত পরীক্ষা থেকে শুরু করে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি কিংবা সিটি স্ক্যানের মতো অতি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চরম অর্থকষ্টে ভুগতে হয়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়া কোনো কল্যাণকামী রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের জোরালো দাবি— দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সকল মেডিকেল টেস্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ফ্রি'তে চালু করতে হবে। 

আজও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ শহরের অসংখ্য দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ শুধু টাকার অভাবে ডাক্তার দেখানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করাতে পারেন না। একটি রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি, এক্স-রে কিংবা আধুনিক কোনো স্ক্যান করানোর সামর্থ্য এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অনেকেরই নেই। এর ফলে অনেক মারাত্মক রোগ সময়মতো শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। যখন রোগটি ধরা পড়ে, ততক্ষণে তা রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়ে হাসপাতালের কাউন্টারে বা প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে টাকার জন্য অসহায় মানুষের চোখের জল ফেলার দৃশ্য অত্যন্ত নির্মম। এই অবস্থার অবসান হওয়া আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। ধনী-দরিদ্রের এই বিশাল বৈষম্য দূর করতে হলে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে পুরোপুরি জনবান্ধব করতে হবে। শুধুমাত্র টেস্টের ফি মওকুফ করলেই হবে না; সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং তা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ও দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে মেশিন থাকা সত্ত্বেও তা 'নষ্ট' বা 'অচল' অজুহাতে ফেলে রাখা হয় এবং রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বাধ্য করা হয়। এই ধরনের অযথা হয়রানি, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং অতিরিক্ত খরচের বোঝা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে কঠোর ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। 

একটি সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং সেই বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে সকল টেস্ট ফ্রি করার উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনে এক অভূতপূর্ব স্বস্তি এনে দেবে। চলুন, দেশের স্বার্থে, মানবতার স্বার্থে আমরা সবাই একসাথে আওয়াজ তুলি— "সরকারি হাসপাতালে ফ্রি'তে সকল টেস্ট চালু করতে হবে।" সবার জন্য সহজ, সমান ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে আমাদের স্বপ্নের সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

Image

বিষয় : চিকিৎসা

দৈনিক জনকথা

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


সরকারি হাসপাতালে ফ্রি'তে সকল টেস্ট চালু করতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image




সরকারি হাসপাতালে ফ্রি'তে সকল টেস্ট চালু করতে হবে

ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা: 

স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। একটি সুস্থ জাতিই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সামান্য রক্ত পরীক্ষা থেকে শুরু করে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি কিংবা সিটি স্ক্যানের মতো অতি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চরম অর্থকষ্টে ভুগতে হয়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়া কোনো কল্যাণকামী রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের জোরালো দাবি— দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সকল মেডিকেল টেস্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ফ্রি'তে চালু করতে হবে। 

আজও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ শহরের অসংখ্য দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ শুধু টাকার অভাবে ডাক্তার দেখানোর পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করাতে পারেন না। একটি রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি, এক্স-রে কিংবা আধুনিক কোনো স্ক্যান করানোর সামর্থ্য এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অনেকেরই নেই। এর ফলে অনেক মারাত্মক রোগ সময়মতো শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। যখন রোগটি ধরা পড়ে, ততক্ষণে তা রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়ে হাসপাতালের কাউন্টারে বা প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে টাকার জন্য অসহায় মানুষের চোখের জল ফেলার দৃশ্য অত্যন্ত নির্মম। এই অবস্থার অবসান হওয়া আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। ধনী-দরিদ্রের এই বিশাল বৈষম্য দূর করতে হলে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে পুরোপুরি জনবান্ধব করতে হবে। শুধুমাত্র টেস্টের ফি মওকুফ করলেই হবে না; সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং তা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ও দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে মেশিন থাকা সত্ত্বেও তা 'নষ্ট' বা 'অচল' অজুহাতে ফেলে রাখা হয় এবং রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বাধ্য করা হয়। এই ধরনের অযথা হয়রানি, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং অতিরিক্ত খরচের বোঝা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে কঠোর ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। 

একটি সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং সেই বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে সকল টেস্ট ফ্রি করার উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনে এক অভূতপূর্ব স্বস্তি এনে দেবে। চলুন, দেশের স্বার্থে, মানবতার স্বার্থে আমরা সবাই একসাথে আওয়াজ তুলি— "সরকারি হাসপাতালে ফ্রি'তে সকল টেস্ট চালু করতে হবে।" সবার জন্য সহজ, সমান ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে আমাদের স্বপ্নের সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।


দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
সরকারি হাসপাতালে ফ্রি'তে সকল টেস্ট চালু করতে হবে
0:00 0:00
1.0x