প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের গৌরব: ড. খলিলুর রহমানের ঐতিহাসিক অর্জন
ওয়াদুদ খন্দকার , প্রকাশক ও সম্পাদক ||
বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের গৌরব: ড. খলিলুর রহমানের ঐতিহাসিক অর্জন ওয়াদুদ খন্দকারবিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক জনকথাবাংলাদেশের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই গৌরবময় ও অনন্য অর্জন বাংলাদেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া এবং স্বপ্নবাজ জনগণের। গত ২ জুন, ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বিশ্বসংস্থার সর্বোচ্চ ফোরাম—জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সাইপ্রাসের শক্তিশালী প্রার্থীকে ৯৯-৯১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তাঁর এই বিজয় কেবল এক ব্যক্তির সাফল্য নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক শক্তির এক উজ্জ্বল প্রমাণ। এক অনন্য কূটনৈতিক মাইলফলকKhalilur Rahman made Bangladesh stand out in the global arena. বিশ্বরাজনীতি ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির শীর্ষ চূড়ায় বাংলাদেশের এই আরোহণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাঝে আমাদের দেশের প্রতি গভীর আস্থা ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ চার দশক পর ড. খলিলুর রহমানের এই বিজয় যেন লাল-সবুজের পতাকাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেল। কারিশম্যাটিক নেতৃত্ব ও যোগ্যতার জয়ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক এবং প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী এই মেধারী ব্যক্তি অতীতে জাতিসংঘের সচিবালয়ে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করেছে। সাইপ্রাসের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশের প্রার্থীকে হারিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর এই জয় বিশ্বমঞ্চে তাঁর ব্যক্তিগত প্রজ্ঞা এবং বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক সম্পর্কেরই ফলশ্রুতি। বিশ্বের সংকট ও বাংলাদেশের প্রত্যাশাজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের এই বিশাল ফোরামকে নেতৃত্ব দেওয়া অত্যন্ত জটিল এবং দায়িত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্ব যখন জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং শরণার্থী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ড. খলিলুর রহমানের এই পদে আসীন হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের জনগণের এখন অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা—তিনি তাঁর এই সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকরভাবে উদ্বুদ্ধ করবেন। একই সাথে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের গৌরবময় ভূমিকাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। উপসংহারজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হলো। এটি আমাদের জন্য যেমন পরম গৌরবের, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গভীর দায়িত্ববোধের। ড. খলিলুর রহমানের বলিষ্ঠ, প্রাজ্ঞ ও নিরপেক্ষ নেতৃত্ব বৈশ্বিক শান্তি, সুশাসন ও সমতা প্রতিষ্ঠায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে—দৈনিক জনকথা-র পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাঁর প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা