প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
শিশু মৃত্যুর পর খানজাহান আলী মাজারের দীঘির কুমির সরানোর সিদ্ধান্ত, নেওয়া হচ্ছে করমজলে
ওয়াদুদ খন্দকার ||
শিশু মৃত্যুর পর খানজাহান আলী মাজারের দীঘির কুমির সরানোর সিদ্ধান্ত, নেওয়া হচ্ছে করমজলে নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট৩ জুন ২০২৬বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দীঘির প্রধান আকর্ষণ ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত কুমিরটিকে অবশেষে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত সোমবার (১ জুন ২০২৬) রাতে দীঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে ফাতেমা আক্তার (৭) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এই সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও একটি ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অবসান এবং দীঘির দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা গাফিলতি নিয়ে স্থানীয়দের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট ও জনরোষগত সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দীঘির ঘাটে গোসল করতে নামে ফাতেমা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দীঘিতে ওত পেতে থাকা একটি লবণাক্ত পানির কুমির আচমকা শিশুটির পা কামড়ে ধরে গভীর পানিতে টেনে নিয়ে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয়দের দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার যৌথ তল্লাশি শেষে মঙ্গলবার ভোরে দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর মাজারের খাদেম, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অতীতেও এমন বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও দীঘিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সতর্কবার্তা না থাকায় কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতিকে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের জরুরি সিদ্ধান্ত ও করমজলে স্থানান্তরপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও দর্শনার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ জুন ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দীঘির কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাগেরহাট পূর্ব सुंदरবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই বাগেরহাটে এসে পৌঁছেছে। তারা কুমিরটির আচরণ, অবস্থান এবং দীঘির চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে এটিকে অক্ষত অবস্থায় ধরার পদ্ধতি এবং স্থানান্তরের কারিগরি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করছেন। ঐতিহ্যের অবসান নাকি নিরাপত্তার জয়?ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বাস করা হয়, প্রায় ৬০০ বছর আগে হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এই দীঘি খনন করে 'কালাপাহাড়' ও 'ধলাপাহাড়' নামের দুটি কুমির লালন-পালন শুরু করেছিলেন। তাদের বংশধরেরা মারা যাওয়ার পর মাজারের ঐতিহ্য রক্ষায় ভারত থেকে আনা লবণাক্ত পানির কুমির দীঘিতে অবমুক্ত করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যপ্রাণীটিকে লোকালয়ের উম্মুক্ত জলাশয়ে রাখা এবং দর্শনার্থীদের অসচেতনভাবে গোসল করার কারণে দীঘিটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন শত বছরের এক প্রাচীন ঐতিহ্যের শেষ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে শত শত দর্শনার্থী ও স্থানীয় শিশুর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। আপাতত মাজারের প্রধান দুটি ঘাটে সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের নামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা