প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
পরিত্যক্ত কূপ থেকে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৪ জনের মৃত্যু: এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি
ওয়াদুদ খন্দকার ||
পরিত্যক্ত কূপ থেকে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৪ জনের মৃত্যু: এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ওয়াদুদ খন্দকার দৈনিক জনকথা একটি সাধারণ ছাগল ছানাকে বাঁচাতে গিয়ে যে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। পরিত্যক্ত একটি কূপের বিষাক্ত গ্যাস কেড়ে নিল বাবা, দুই ছেলে এবং প্রতিবেশী এক যুবকের প্রাণ। বুক ফাটানো কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ঘটনাটি দেশের সব স্তরের মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত যেভাবেপ্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে বাড়ির পাশে চরে বেড়ানো একটি ছাগল হঠাৎ করেই একটি গভীর পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ছাগলটিকে জীবিত উদ্ধার করার জন্য প্রথমে ওই পরিবারের ছোট ছেলে কূপের ভেতরে নামেন। কিন্তু কূপের তলদেশে যাওয়ার পরপরই বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং ওপরে থাকা স্বজনদের কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না।উদ্ধার করতে গিয়ে একে একে মৃত্যুছোট ছেলের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তাকে বাঁচাতে কূপের ভেতরে নামেন তার বড় ভাই। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনিও ভেতরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দুই ছেলের এই অবস্থা দেখে ব্যাকুল হয়ে বাবা নিজেই কূপের ভেতরে নেমে যান। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস, বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড বা মিথেন গ্যাসের তীব্রতায় তিনিও সেখানে অবশ হয়ে পড়েন।একই পরিবারের তিনজনকে কূপের ভেতর আটকে থাকতে দেখে প্রতিবেশী এক সাহসী যুবক তাদের উদ্ধার করতে ভেতরে নামেন। দুর্ভাগ্যবশত, কূপের বিষাক্ত পরিবেশ তাকেও রেহাই দেয়নি। তিনিও ভেতরেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।উদ্ধার অভিযান ও শোকের ছায়াপরবর্তীতে স্থানীয় উৎসুক জনতা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অক্সিজেন মাস্ক এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে কূপের ভেতর থেকে চারজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। দ্রুত তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পরিত্যক্ত কূপে ক্ষতিকারক গ্যাস জমে অক্সিজেন শূন্যতার সৃষ্টি হয়। সেখানে প্রবেশ করার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মানুষ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যেতে পারে। এই ঘটনাতেও ঠিক তেমনটিই ঘটেছে।সচেতনতা ও শিক্ষাএই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।পরিত্যক্ত কূপ ঢেকে রাখা: বাড়ির আশেপাশে বা জমিতে থাকা যেকোনো অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত কূপ, সেপটিক ট্যাংক বা গভীর গর্ত সবসময় শক্ত ঢাকনা দিয়ে আটকে রাখা উচিত।বিশেষজ্ঞ ছাড়া উদ্ধার কাজে নিষেধাজ্ঞা: এই ধরণের কূপে কেউ পড়ে গেলে পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী (যেমন অক্সিজেন সিলিন্ডার) ছাড়া ভেতরে নামা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে (৯৯৯ নম্বরে) কল করাই একমাত্র নিরাপদ উপায়।একটি ছাগল বাঁচাতে গিয়ে একই পরিবারের প্রদীপ নিভে যাওয়ার এই ঘটনা আমাদের শিখিয়ে গেল, আবেগ দিয়ে নয়, বরং সচেতনতা ও সঠিক সিদ্ধান্তই পারে এমন বড় দুর্ঘটনা থেকে প্রাণ বাঁচাতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা