প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়ায় আড়াই বছরের শিশুকে গলা চেপে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা: থানায় গিয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রীর লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি
ওয়াদুদ খন্দকার ||
কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়ায় আড়াই বছরের শিশুকে গলা চেপে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা: থানায় গিয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রীর লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিকালীগঞ্জ, জুন ২১ ২০২৬ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভায় এক গা শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের দেওপাড়া এলাকায় আড়াই বছরের এক কন্যাসন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শিশুর নাম আয়েশা আক্তার। এই হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মোড় আসে তখন, যখন ঘাতক নিজেই থানায় গিয়ে অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে। ঘাতক আর কেউ নয়, একই এলাকার নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী। তার নাম ইসরাত জাহান মিম।ঘটনার বিবরণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড:পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওপাড়া এলাকার আড়াই বছরের শিশু আয়েশা আক্তার হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন তাকে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মিলছিল না। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে স্থানীয় থানায় হাজির হয় প্রতিবেশী নবম শ্রেণীর ছাত্রী ইসরাত জাহান মিম। থানায় গিয়ে সে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় স্বীকার করে যে, সে নিজেই আয়েশাকে হত্যা করেছে। প্রথমে শিশুটির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করা হয় এবং পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।"ইচ্ছা হয়েছে, তাই মেরেছি" – অদ্ভুত ও ভয়ংকর মানসিকতা:থানায় আত্মসমর্পণের পর পুলিশ ও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা মিমকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ জিজ্ঞেস করলে সে যে উত্তর দেয়, তা শুনে অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তারাও হতবাক হয়ে যান। কোনো পূর্ব শত্রুতা, পারিবারিক বিরোধ বা আকস্মিক ক্ষোভ থেকে নয়, মিম জানায়—হঠাৎ তার আয়েশাকে হত্যা করার "ইচ্ছা" হয়েছিল, আর সেই বিকৃত ইচ্ছা পূরণ করতেই সে নিষ্পাপ শিশুটিকে শেষ করে দিয়েছে। তার চোখে-মুখে বা কথায় এই অপরাধের জন্য কোনো অনুশোচনা বা ভয়ের লেশমাত্র দেখা যায়নি।এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভ:একটি আড়াই বছরের ফুটফুটে শিশুর এমন আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে গোটা কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দেওপাড়ার বাতাস। অন্যদিকে, মাত্র নবম শ্রেণীর একজন কিশোরীর এমন ভয়ঙ্কর ও অপরাধপ্রবণ মানসিকতায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল চরম আতঙ্কিত ও স্তম্ভিত।পুলিশের পদক্ষেপ:মিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত ইসরাত জাহান মিমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো মানসিক বিকৃতি, কোনো গেম বা অন্য কোনো গভীর রহস্যের অংশ কি না—তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা