প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
টাকা আমার, ডাটা অপারেটরের? মোবাইলের ‘মেয়াদ জট’ ও গ্রাহক ভোগান্তির অবসান চাই
ওয়াদুদ খন্দকার ||
টাকা আমার, ডাটা অপারেটরের? মোবাইলের ‘মেয়াদ জট’ ও গ্রাহক ভোগান্তির অবসান চাইওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা: ডিজিটাল বাংলাদেশের পর এখন আমরা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু এই স্মার্ট যুগেও দেশের কোটি কোটি মোবাইল গ্রাহক একটি আদিম ও অযৌক্তিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তা হলো— মেগাবাইট (এমবি) এবং কল মিনিটের ‘মেয়াদকাল’। নিজের উপার্জিত টাকা দিয়ে কেনা ডাটা বা মিনিট একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। গ্রাহক ব্যবহার করতে পারুক আর না পারুক, সময় শেষ হলেই তার কেনা অধিকার কেড়ে নিচ্ছে মোবাইল অপারেটরগুলো। সাধারণ জনগণের এই ভোগান্তির যেন কোনো শেষ নেই।ভোক্তা অধিকারে বড় আঘাতএকজন গ্রাহক যখন টাকা দিয়ে ১০০০ এমবি বা ৫০০ মিনিট কেনেন, তখন সেই পণ্যের ওপর তাঁর শতভাগ মালিকানা তৈরি হয়। বাজার থেকে চাল বা ডাল কিনলে দোকানদার কি বলে দেয় যে, ‘৭ দিনের মধ্যে না খেলে এই চাল আমি ফেরত নিয়ে যাব’? নিশ্চয়ই না। তাহলে টেলিকম খাতে এই নিয়ম কেন? গ্রাহক যতদিন না তা ব্যবহার করে শেষ করছেন, ততদিন তা সচল থাকাটাই স্বাভাবিক আইনি ও নৈতিক নিয়ম হওয়া উচিত।সংসদে ক্ষোভ ও জনদাবিসম্প্রতি জাতীয় সংসদেও এই বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, একজন গ্রাহক হয়তো এক মাসের জন্য বড় কোনো ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনলেন, কিন্তু মাস শেষে দেখা গেল তাঁর বড় একটি অংশ অব্যবহৃত রয়ে গেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাতে সেই ডাটা বা টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপারেটরদের পকেটে চলে যাচ্ছে, যা জনগণের সাথে স্পষ্ট অন্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এখন একটাই দাবি— এমবি ও মিনিটের মেয়াদ আনলিমিটেড বা আজীবন করা হোক।অপারেটরদের ‘প্যাকেজ’ ফাঁদমোবাইল অপারেটরগুলো (যেমন- গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, টেলিটক) গ্রাহকদের নানা রকম জটিল প্যাকেজের বেড়াজালে আটকে রাখে। ৩ দিন, ৭ দিন বা ৩০ দিনের মেয়াদ দিয়ে প্রতিনিয়ত ডাটা রিচার্জ করতে বাধ্য করা হয়। অনেক সময় আগের অব্যবহৃত ডাটা পরের প্যাকেজে যোগ করার (ডাটা ক্যারিফরওয়ার্ড) কথা বলা হলেও, তার জন্য আবার একই মেয়াদের বা তার চেয়ে দামি প্যাকেজ কিনতে হয়। এই নিয়মগুলো সাধারণ এবং কম শিক্ষিত গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত জটিল ও বিভ্রান্তিকর।আমাদের দাবি ও সমাধানের পথগ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে অবিলম্বে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:১. আনলিমিটেড মেয়াদ: ডাটা বা মিনিটের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদকাল থাকা উচিত নয়। একবার কেনা এমবি বা মিনিট গ্রাহকের ব্যালেন্সে আজীবন জমা থাকবে, যতদিন না তিনি তা ব্যবহার করে শেষ করছেন।২. সহজ নীতিমালা: বিটিআরসি (BTRC)-এর উচিত অপারেটরদের এই মনগড়া মেয়াদের বাণিজ্য বন্ধে কঠোর নীতিমালা তৈরি করা।৩. স্বচ্ছতা: প্যাকেজের মারপ্যাঁচ বন্ধ করে সহজ ও সাধারণ রেট নির্ধারণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত না হন।উপসংহারইন্টারনেট বা মোবাইল কল এখন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকারের মতো জরুরি। জনগণের পকেট কেটে মোবাইল কোম্পানিগুলোর এই অন্যায্য মুনাফা করার সুযোগ আর দেওয়া ঠিক হবে না। গ্রাহক অধিকার রক্ষা এবং জনভোগান্তি দূর করতে ডাটা ও মিনিটের মেয়াদের এই ‘শৃঙ্খল’ ভাঙা এখন সময়ের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা