প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
ক্যানসার রোগীদের সুরথিরাপি থেকে ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’ চ্যাম্পিয়ন: জ্যোতির্ময়ী নায়কের অবিশ্বাস্য গল্প ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা বিনোদন ডেস্ক | ২৮ জুলাই, ২০২৬
ওয়াদুদ খন্দকার ||
ক্যানসার রোগীদের সুরথিরাপি থেকে ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’ চ্যাম্পিয়ন: জ্যোতির্ময়ী নায়কের অবিশ্বাস্য গল্প ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা বিনোদন ডেস্ক | ২৮ জুলাই, ২০২৬ দীর্ঘ ১০ মাসের সুরের মহাযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ভারতের জনপ্রিয় সংগীতভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর বিজয়ীর মুকুট নিজের মাথায় তুলে নিয়েছেন ওডিশার ২৪ বছর বয়সী তরুণী জ্যোতির্ময়ী নায়ক। গত ২৬শে জুলাই অনুষ্ঠিত জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালেতে দর্শকদের সর্বোচ্চ ভোটে এবং বিচারকদের প্রশংসায় তিনি এই গৌরব অর্জন করেন।বিজয়ী হিসেবে ট্রফির পাশাপাশি জ্যোতির্ময়ী পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন নগদ ২০ লাখ ভারতীয় রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৫ লাখ টাকা)। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ নির্বাচিত হয়েছেন জবলপুরের তনিষ্ক শুক্লা।প্রত্যাখ্যান থেকে রাজকীয় প্রত্যাবর্তনজ্যোতির্ময়ীর এই যাত্রাপথ সহজ ছিল না। তিনি ২০১৯ সালে প্রথমবার ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর অডিশন দিতে এসে প্রাথমিক পর্বেই বাদ পড়েছিলেন। তবে হার না মেনে দীর্ঘ ৬ বছরের কঠোর সাধনা শেষে ২০২৬ সালে সেই একই মঞ্চে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি ছুঁয়ে তিনি যেন এক ‘পূর্ণ বৃত্ত সম্পন্ন’ করলেন। ওডিশা রাজ্যের প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জিতে তিনি ইতিহাস গড়েছেন।পেশায় মিউজিক থেরাপিস্ট: মানবতার সুরসংগীতের পাশাপাশি জ্যোতির্ময়ীর আসল পরিচয় তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ মিউজিক থেরাপিস্ট। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের গান শুনিয়ে তাদের মানসিক কষ্ট লাঘব করা এবং ক্যানসার ওয়ার্ডে সুরের মাধ্যমে সুস্থতার আলো ছড়ানোই ছিল তার প্রধান কাজ। রোগীদের সেই নিঃস্বার্থ আশীর্বাদই আজ তাকে দেশের এত বড় মঞ্চে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়েছে বলে মনে করছেন তার ভক্তরা।কঠিন পথ এবং বিচারকদের প্রশংসাশ্রেয়া ঘোষাল, বিশাল দাদলানি এবং বাদশাহর মতো তারকা বিচারকদের প্যানেলে এবারের আসরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ইয়াদোঁ কি প্লেলিস্ট’। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দর্শকপ্রিয়তার কারণে অনুষ্ঠানটির মেয়াদ দুই দফায় বাড়িয়ে প্রায় ১০ মাস করা হয়, যা ভারতীয় রিয়েলিটি শো-এর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘতম আসর। গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশিকা চোঙ্কার, মনরাজ বীর সিং, মাইসকমি বসু এবং সুহাইল সুফির মতো শক্তিশালী প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে তিনি এই শিরোপা জেতেন।বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত জ্যোতির্ময়ী বলেন:"আমি কখনোই পুরস্কারের অর্থ নিয়ে ভাবিনি। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল প্রতি সপ্তাহে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়া এবং বিচারকদের মন জয় করা। ওডিশায় প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে কাজ করলেও, জাতীয় স্তরে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার এই ঝুঁকিটাই আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত ছিল।"সুরথিরাপি থেকে শুরু করে স্বপ্নের ইন্ডিয়ান আইডল মঞ্চ জয়—জ্যোতির্ময়ী নায়কের এই অনন্য গল্প কোটি তরুণ-তরুণীর জন্য আজ এক নতুন অনুপ্রেরণার নাম।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা