প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
কালীগঞ্জে প্রশাসনের শক্ত অবস্থান: পুনশাহী এলাকায় বন্ধ হলো বাল্যবিয়ে ওয়াদুদ খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ
ওয়াদুদ খন্দকার ||
কালীগঞ্জে প্রশাসনের শক্ত অবস্থান: পুনশাহী এলাকায় বন্ধ হলো বাল্যবিয়ে ওয়াদুদ খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার পুনশাহী এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও প্রশংসনীয় হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে গেছে একটি বাল্যবিয়ের আয়োজন। প্রশাসনের এই শক্ত পদক্ষেপের কারণে আইনগত বিয়ের বয়স পূর্ণ না হওয়া এক অপ্রাপ্তবয়স্ক বর ও কনে অনাকাঙ্ক্ষিত বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানজানা যায়, পুনশাহী এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক বর ও কনের মধ্যে বাল্যবিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। বিয়ে বাড়িতে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ, ঠিক তখনই স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। খবর পাওয়া মাত্রই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।বয়স জালিয়াতির চেষ্টা ও প্রশাসনের অ্যাকশনঅভিযান পরিচালনাকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বর ও কনের জন্ম নিবন্ধন সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। তদন্তে দেখা যায়, আইন অনুযায়ী বর এবং কনে উভয়েরই বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বয়স জালিয়াতি বা লুকিয়ে বিয়ের চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের সতর্ক নজরদারির কারণে তা ব্যর্থ হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।জরিমানা ও মুচলেকা গ্রহণবাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ের আয়োজন করার অপরাধে বর ও কনে পক্ষের অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়। ভবিষ্যতে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে তাদের বিয়ে দেবেন না—এই মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। আইন অমান্য করলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।প্রশাসনের বক্তব্য ও জনসচেতনতাঅভিযান শেষে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, "বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। কালীগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে আমাদের এই ধরনের অভিযান এবং জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।"এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সচেতন মহল প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা