প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাঁটাতারের খাঁচায় বন্দি মানবতা: শ্রীপুরের এক বিধবার দুই বছরের আর্তনাদ
ওয়াদুদ খন্দকার ||
কাঁটাতারের খাঁচায় বন্দি মানবতা: শ্রীপুরের এক বিধবার দুই বছরের আর্তনাদ ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথাস্বাধীন দেশের বুকে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার এবং চলাফেরা করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, সেখানে এক বৃদ্ধা বিধবা মায়ের জীবনে নেমে এসেছে এক নির্মম অন্ধকার। সভ্য সমাজের বুকে এ যেন এক আদিম এবং মধ্যযুগীয় বর্বরতা। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের এক কোণে, নিজের বসতভিটাতেই দীর্ঘ দুটি বছর ধরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন অসহায় বিধবা শামসুন্নাহার বেগম। কোনো কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নয়, নিজের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থলটুকুর চারপাশেই তুলে দেওয়া হয়েছে বাঁশ, কাঠ আর ধারালো কাঁটাতারের এক দুর্ভেদ্য দেয়াল।একটি ইঞ্চি জায়গাও নেই যেখান দিয়ে তিনি স্বাভাবিকভাবে পা বাড়াতে পারেন। প্রতিদিন মরণঝুঁকি নিয়ে, এক বুক আতঙ্ক আর মই বেয়ে দেয়াল টপকে তাকে যাতায়াত করতে হয়। যেখানে বৃদ্ধ বয়সে একটু শান্তিতে শ্বাস নেওয়ার কথা, সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত কাটে তার বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাসে আর কান্নায়।শামসুন্নাহার বেগমের এই বন্দি জীবনের করুণ কাহিনী এখানেই শেষ নয়। যে নিষ্ঠুর হাত তার চলার পথ অবরুদ্ধ করেছে, সেই একই নিষ্ঠুরতা তার জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলোকেও কেড়ে নিয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে তার বসতবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, নিয়ে যাওয়া হয়েছে মিটার পর্যন্ত! নেই কোনো পানির সুব্যবস্থা। আলোহীন, পানিহীন এক দুর্বিষহ নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে তার এই চেনা ঘরটি।এক টুকরো অন্ধকারের মাঝে বসে কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি যখন বলেন, "পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই—এভাবে দুই বছর ধরে কীভাবে চলছি, সেটা শুধু আমিই জানি", তখন যেন থমকে যায় চারপাশের বাতাস। সমাজ আর মানবতার গালে এর চেয়ে বড় চপেটাঘাত আর কী হতে পারে? একজন নিঃস্ব বিধবা নারী, যার পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কেউ নেই, তার ওপর এমন অবর্ণনীয় অত্যাচার কেবল কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কাজ হতে পারে না। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী নুরুল হুদার দিকে, যিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিনিয়ত এই অসহায় নারীকে হুমকি দিয়ে চলেছেন।আমাদের প্রশাসন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কি তবে এই নির্মমতার সামনে এতই ঠুনকো? চোখের সামনে একজন মা এভাবে কাঁটাতারের খাঁচায় বন্দি হয়ে মরতে বসবেন, আর চারপাশের পৃথিবী স্বাভাবিক নিয়মে চলবে—তা হতে পারে না। শামসুন্নাহার বেগমের এই বন্দিদশা কেবল তার শারীরিক স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক বিবেক ও সভ্যতার ওপর এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন। এই বন্দি খাঁচা ভেঙে ফেলার এবং একজন বিধবা মায়ের অধিকার ও সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব এখন আমাদের সবার। আমরা কি পারব এই ক্রন্দনরত মায়ের চোখের জল মুছে দিতে, নাকি কাঁটাতারের ওপারেই ধুঁকে ধুঁকে নিভে যাবে একটি মানবজীবন?রেডিও বার্তাকাঁটাতারের বেড়ায় ২ বছর ধরে 'বন্দী' বিধবা, নেই বিদ্যুৎ-পানি শামসুন্নাহার বেগম বলেন, 'দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমি ঘরবন্দী। বসতবাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বের হওয়ার এক ইঞ্চি জায়গাও নেই। মই দিয়ে দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়ায় দুই বছর ধরে 'বন্দী' বিধবা, নেই বিদ্যুৎ-পানিও শামসুন্নাহার বেগম বলেন, 'দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমি ঘরবন্দী। বসতবাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বের হওয়ার এক ইঞ্চি জায়গাও নেই। মই দিয়ে দেয়াল টপকে ...
সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা