ঢাকা    শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা: বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার ১৫ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই



বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা: বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার ১৫ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা: বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার ১৫ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

বিশেষ প্রতিনিধি, বেইজিং:
বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ এক রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) এই বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল সই করা হয়েছে। 

গ্রেট হলে লাল গালিচা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা

বৈঠকের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তাকে আন্তরিক ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ঐতিহাসিক এই ভবনের চত্বরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তিয়েনআনমেন স্কয়ারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত গ্রেট হল এলাকাটি বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় পতাকায় সাজানো হয়েছিল। 

দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষা

অভ্যর্থনা পর্ব শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের সাথে সম্পর্ককে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ‘এক চীন’ নীতির প্রতি ঢাকার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। 

১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৫টি সহযোগিতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২টি মূল চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU)। এই চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো: 

  • বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ: বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো।
  • সবুজ উন্নয়ন ও নতুন জ্বালানি: পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যৌথ সহযোগিতা।
  • অবকাঠামো ও বন্দর উন্নয়ন: মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন।
  • ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল ইকোনমি খাতের উন্নয়ন।
  • মানবসম্পদ ও শিক্ষা: শিক্ষা, জনশক্তি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য এবং গণমাধ্যম ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
  • নদী ব্যবস্থাপনা: তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা ও সার্বিক নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা। 

নৈশভোজ ও পরবর্তী কর্মসূচি

সফল দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং গ্রেট হলেই এক রাজকীয় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করেন। সফরের পরবর্তী অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক বিশেষ শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন। 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই চীন সফর এবং নতুন করে ১৫টি চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছাল, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

দৈনিক জনকথা

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা: বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার ১৫ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা: বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার ১৫ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

বিশেষ প্রতিনিধি, বেইজিং:
বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ এক রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) এই বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল সই করা হয়েছে। 

গ্রেট হলে লাল গালিচা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা

বৈঠকের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তাকে আন্তরিক ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ঐতিহাসিক এই ভবনের চত্বরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তিয়েনআনমেন স্কয়ারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত গ্রেট হল এলাকাটি বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় পতাকায় সাজানো হয়েছিল। 

দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষা

অভ্যর্থনা পর্ব শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের সাথে সম্পর্ককে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ‘এক চীন’ নীতির প্রতি ঢাকার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। 

১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৫টি সহযোগিতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২টি মূল চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU)। এই চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো: 

  • বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ: বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো।
  • সবুজ উন্নয়ন ও নতুন জ্বালানি: পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যৌথ সহযোগিতা।
  • অবকাঠামো ও বন্দর উন্নয়ন: মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন।
  • ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল ইকোনমি খাতের উন্নয়ন।
  • মানবসম্পদ ও শিক্ষা: শিক্ষা, জনশক্তি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য এবং গণমাধ্যম ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
  • নদী ব্যবস্থাপনা: তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা ও সার্বিক নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা। 

নৈশভোজ ও পরবর্তী কর্মসূচি

সফল দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং গ্রেট হলেই এক রাজকীয় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করেন। সফরের পরবর্তী অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক বিশেষ শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন। 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই চীন সফর এবং নতুন করে ১৫টি চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছাল, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 


দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা: বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার ১৫ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই
0:00 0:00
1.0x