ঢাকা    সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

আর কত খামারি এভাবে নিঃস্ব হবে? প্রশাসন কি ছুরু সাহেবের কান্না শুনতে পাচ্ছে?"



আর কত খামারি এভাবে নিঃস্ব হবে? প্রশাসন কি ছুরু সাহেবের কান্না শুনতে পাচ্ছে?"

আর কত খামারি এভাবে নিঃস্ব হবে? প্রশাসন কি ছুরু সাহেবের কান্না শুনতে পাচ্ছে?"

 ওদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের বৌননা গ্রামের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে এই অভিশপ্ত শূন্যতা। এই উজার হয়ে যাওয়া গোয়াল ঘরের মাঝে মলিন মুখে, জীর্ণ শরীরে বসে আছেন বৃদ্ধ সহরত আলী ছুরু সাহেব। তাঁর চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে তপ্ত অশ্রু। যে চোখ দুটোয় একদিন ছিল স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন, আজ সেখানে কেবলই এক অথৈ অন্ধকার আর দিশেহারা চাহনি। চোরেরা শুধু তাঁর গোয়ালের পশুগুলোই নিয়ে যায়নি, নিয়ে গেছে তাঁর বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন, তাঁর জীবনের শেষ সম্বল।

বুকের ভেতর জমে থাকা পাথরচাপা কষ্ট আর ক্ষোভ নিয়ে আকুল কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন আকাশের দিকে—"কার কাছে যাবো, কার কাছে বিচার চাইবো?"

বৌননা গ্রামের এই বৃদ্ধ কৃষক তাঁর জীবনের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে এই পশু গুলো লালন-পালন করেছিলেন। ভেবেছিলেন জীবনের শেষ দিনগুলো হয়তো একটু শান্তিতে কাটবে। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে তাঁর সেই সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেল। এই বয়সে এসে নতুন করে শুরু করার শক্তি তাঁর নেই, নেই কোনো জমানো পুঁজি।

ছুরু সাহেবের এই কান্না জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের বাতাসকে ভারী করে তুলছে। এই প্রশ্নটি কেবল তাঁর একার নয়; এটি সমাজের সেইসব অসহায়, প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে একেকটি স্বপ্ন বোনেন, আর এক নিমেষেই কেউ সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়ে যায়।

সহরত আলী ছুরু সাহেবের এই ভেজা চোখ আর শূন্য গোয়াল ঘর কি কেবলই একটি চুরির ঘটনা, নাকি এক চরম অসহায়ত্বের জীবন্ত দলিল? এই নিঃস্ব বৃদ্ধের হাহাকার কি পৌঁছাবে প্রশাসনের কানে? তিনি কি ফিরে পাবেন তাঁর শেষ সম্বল, নাকি এই শূন্য গোয়াল ঘরের মতোই চিরতরে হারিয়ে যাবে তাঁর সব স্বপ্ন?

দৈনিক জনকথা

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


আর কত খামারি এভাবে নিঃস্ব হবে? প্রশাসন কি ছুরু সাহেবের কান্না শুনতে পাচ্ছে?"

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image


আর কত খামারি এভাবে নিঃস্ব হবে? প্রশাসন কি ছুরু সাহেবের কান্না শুনতে পাচ্ছে?"

 ওদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের বৌননা গ্রামের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে এই অভিশপ্ত শূন্যতা। এই উজার হয়ে যাওয়া গোয়াল ঘরের মাঝে মলিন মুখে, জীর্ণ শরীরে বসে আছেন বৃদ্ধ সহরত আলী ছুরু সাহেব। তাঁর চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে তপ্ত অশ্রু। যে চোখ দুটোয় একদিন ছিল স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন, আজ সেখানে কেবলই এক অথৈ অন্ধকার আর দিশেহারা চাহনি। চোরেরা শুধু তাঁর গোয়ালের পশুগুলোই নিয়ে যায়নি, নিয়ে গেছে তাঁর বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন, তাঁর জীবনের শেষ সম্বল।

বুকের ভেতর জমে থাকা পাথরচাপা কষ্ট আর ক্ষোভ নিয়ে আকুল কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন আকাশের দিকে—"কার কাছে যাবো, কার কাছে বিচার চাইবো?"


বৌননা গ্রামের এই বৃদ্ধ কৃষক তাঁর জীবনের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে এই পশু গুলো লালন-পালন করেছিলেন। ভেবেছিলেন জীবনের শেষ দিনগুলো হয়তো একটু শান্তিতে কাটবে। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে তাঁর সেই সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেল। এই বয়সে এসে নতুন করে শুরু করার শক্তি তাঁর নেই, নেই কোনো জমানো পুঁজি।

ছুরু সাহেবের এই কান্না জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের বাতাসকে ভারী করে তুলছে। এই প্রশ্নটি কেবল তাঁর একার নয়; এটি সমাজের সেইসব অসহায়, প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে একেকটি স্বপ্ন বোনেন, আর এক নিমেষেই কেউ সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়ে যায়।

সহরত আলী ছুরু সাহেবের এই ভেজা চোখ আর শূন্য গোয়াল ঘর কি কেবলই একটি চুরির ঘটনা, নাকি এক চরম অসহায়ত্বের জীবন্ত দলিল? এই নিঃস্ব বৃদ্ধের হাহাকার কি পৌঁছাবে প্রশাসনের কানে? তিনি কি ফিরে পাবেন তাঁর শেষ সম্বল, নাকি এই শূন্য গোয়াল ঘরের মতোই চিরতরে হারিয়ে যাবে তাঁর সব স্বপ্ন?


দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
আর কত খামারি এভাবে নিঃস্ব হবে? প্রশাসন কি ছুরু সাহেবের কান্না শুনতে পাচ্ছে?"
0:00 0:00
1.0x