মা’দকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: যেখানে মা’দক, সেখানেই প্রতিরোধ
মা’দকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: যেখানে মা’দক, সেখানেই প্রতিরোধওয়াদুদ খন্দকার দৈনিক জনকথাতরুণ সমাজ একটি দেশের মেরুদণ্ড, সমৃদ্ধ আগামীর কারিগর। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই অমিত সম্ভাবনাময় শক্তির সামনে সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মা’দক’। বর্তমান সময়ে মা’দকের ভয়াল থাবা সমাজ, পরিবার এবং রাষ্ট্রকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মা’দক কেবল একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, বরং একটি পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে নিঃস্ব ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়। তাই আজ সময় এসেছে দল-মত নির্বিশেষে এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়ানোর।মা’দক কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি একটি নীরব ঘাতক। ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন কিংবা হালের ভয়ংকর সব সিন্থেটিক মা’দক আমাদের যুবসমাজের মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। মা’দকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কিশোর ও যুবকেরা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই, খুন ও ইভটিজিংয়ের মতো জঘন্য সব সামাজিক অপরাধে। ফলে বিনষ্ট হচ্ছে সামাজিক শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা। একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য এর চেয়ে বড় অস্ত্র আর হতে পারে না।শুধু আইনি তৎপরতা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একার পক্ষে মা’দকের এই বিশাল সিন্ডিকেট ও বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক জাগরণ এবং পাড়ায়-মহল্লায় জোরালো প্রতিরোধ। আমাদের স্লোগান হওয়া উচিত—‘যেখানেই মা’দক, সেখানেই প্রতিরোধ’। যেখানেই মা’দক কেনাবেচা বা সেবনের খবর পাওয়া যাবে, সেখানেই স্থানীয় জনগণকে সচেতনভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাৎক্ষণিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে পরিবারকে। সন্তানেরা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে, তাদের আচরণে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসছে কি না—সেদিকে মা-বাবাকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। পারিবারিক সুশিক্ষা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসনই পারে সন্তানকে মা’দকের হাত থেকে দূরে রাখতে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মা’দকবিরোধী নিয়মিত কাউন্সিলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।মা’দকমুক্ত সমাজ গঠন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আমাদের মনে রাখতে হবে, আজ যদি আমরা মা’দকের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হই, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। আসুন, দেশ ও সমাজকে রক্ষায় আমরা প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে এক একজন মা’দকবিরোধী যোদ্ধা হয়ে উঠি। মা’দককে ‘না’ বলি, মা’দকমুক্ত সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ি।