ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

যেখানেই মাদক সেখানেই প্রতিরোধ, মাদক মুক্ত বাংলাদেশ চাই

যেখানেই মাদক সেখানেই প্রতিরোধ, মাদক মুক্ত বাংলাদেশ চাইএকটি দেশের প্রাণশক্তি হলো তার তরুণ প্রজন্ম。 কিন্তু সেই তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি মাদকের নীল দংশনে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে, তবে দেশের অগ্রগতি থমকে যেতে বাধ্য। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মাদক। এই মরণব্যাধির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, বরং "যেখানেই মাদক সেখানেই প্রতিরোধ" — এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করে প্রতিটি স্তরে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে。মাদক : এক নীরব মহামারিমাদকাসক্তি কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি আজ জাতীয় ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে。 হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ নানা রকমের প্রাণঘাতী সিনথেটিক মাদক。 এর বিষাক্ত ছোবলে শুধু মেধাবী তরুণরাই বিপথগামী হচ্ছে না, বরং ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অগণিত পরিবার。 মাদকাসক্তির ফলে সমাজে বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা, চুরি, ছিনতাই, খুন ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ。 এমতাবস্থায় মাদকের বিস্তার রোধ করা না গেলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে。প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধমাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে。 তবে মাঠপর্যায়ে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে মাদকের মতো জটিল সমস্যার স্থায়ী সমাধান অসম্ভব。 মাদক কারবারিরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে。 তাই তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে ‘সামাজিক প্রতিরোধ’ গড়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি。 পাড়া-মহল্লায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং কর্মক্ষেত্রে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে。মাদক প্রতিরোধে বহুমুখী পদক্ষেপমাদককে সমাজ থেকে চিরতরে নির্মূল করতে চাইলে আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে। এক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন:পরিবারের ভূমিকা: সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, তার আচরণের কোনো পরিবর্তন আসছে কি না—সেদিকে অভিভাবকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে。শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে মাদকের কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন আয়োজন করা。ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতা: মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বয়ান বা আলোচনা তুলে ধরা。তরুণদের ব্যস্ততা: তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিভিন্ন সামাজিক গঠনমূলক কাজে যুক্ত রাখতে হবে。মাদকাসক্তদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও পুনর্বাসনমাদকাসক্তদের অপরাধী হিসেবে না দেখে তাদের একজন অসুস্থ রোগী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত。 তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন সহানুভূতিশীল আচরণ。 সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর সেবার মান বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে。 এছাড়া শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে প্রবেশের আগে ‘ডোপ টেস্ট’ বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা প্রয়োজন。উপসংহারমাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় কেবল শ্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না。 তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে ‘যেখানেই মাদক, সেখানেই প্রতিরোধ’ এই নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই。 আসুন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই。 একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দলমত নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এখন সময়ের প্রধান দাবি。

যেখানেই মাদক সেখানেই প্রতিরোধ, মাদক মুক্ত বাংলাদেশ চাই