গাজীপুরে রিসোর্টে ডিজে পার্টির আড়ালে মাদকের আসর: গ্রেপ্তার ৪কোকেন, কুশ ও এমডিএমএ-সহ উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক মাদক নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে 'ডিজে পার্টি'র আড়ালে নিষিদ্ধ সিন্থেটিক মাদকের জমজমাট আসর ও কেনাবেচার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে কোকেন, কুশ, এমডিএমএ (একস্ট্যাসি) এবং টিএইচসি-যুক্ত গামিসহ বিভিন্ন ধরণের উচ্চমূল্যের বিদেশি সিন্থেটিক মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিম (২৯), তুষার আহমেদ নিশু (৩২), মহিদুল ইসলাম রাহাত (২৮) ও কাসফিয়া নিশাত (২৫)। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা নিজেরাই এই ডিজে পার্টির মূল আয়োজক ছিলেন।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) গাজীপুর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ঢাকা ও গাজীপুর অঞ্চলের একাধিক ইউনিটের সমন্বয়ে একটি যৌথ দল পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবের ‘টিউবেরোজ’ নামক একটি কটেজে অভিযান শুরু করে। ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলামের নেতৃত্বে এই আভিযানিক দল শনিবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত রিসোর্ট এলাকায় তল্লাশি চালায়।তল্লাশিকালে আভিযানিক দল নিশ্চিত হয় যে, ডিজে পার্টির চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে সেখানে আসা তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীদের মাঝে সুপরিকল্পিতভাবে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছিল। অভিযানস্থল থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রাণঘাতী কোকেন, সিন্থেটিক গাঁজা বা ‘কুশ’, এক্সটাসি বা এমডিএমএ বড়ি, বিদেশি মদ এবং ক্ষতিকারক টিএইচসি উপাদানযুক্ত বিশেষ ধরনের ‘গামি’ বা লজেন্স জব্দ করা হয়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এমদাদুল ইসলাম মিঠুন সাংবাদিকদের অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্তের বরাতে অধিদপ্তর জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর অভিজাত এলাকা ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন নামী রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টির আয়োজন করে আসছিল। মূলত এই সব পার্টিতে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করে সিন্থেটিক ও নতুন মাদক কেনাবেচার আন্তর্জাতিক একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে শনিবার গাজীপুরের পূবাইল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার উপকণ্ঠে বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে এমন মাদক বাণিজ্যের নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা বের করতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।