ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

নতুন রাজনৈতিক ধারার অঙ্গীকার: জাতীয় নাগরিক পার্টির নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে শুভেচ্ছা ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা / নিজস্ব মতামত



নতুন রাজনৈতিক ধারার অঙ্গীকার: জাতীয় নাগরিক পার্টির নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে শুভেচ্ছা   ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা / নিজস্ব মতামত

নতুন রাজনৈতিক ধারার অঙ্গীকার: জাতীয় নাগরিক পার্টির নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে শুভেচ্ছা

 ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা / নিজস্ব মতামত

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন আঙ্গিকে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করতে যাচ্ছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত এই তরুণ নেতৃত্বনির্ভর রাজনৈতিক শক্তির নবগঠিত ও পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।

নতুন নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস ও প্রত্যাশা

দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে বহাল রেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সারজিস আলমকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংহত করতে বিভিন্ন সাংগঠনিক উপকমিটি ও বিশেষায়িত সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জুলাইয়ের রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এ দেশের তরুণ সমাজ যে 'দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র' ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখেছে, তার কাণ্ডারী হিসেবে এনসিপির এই নতুন কমিটির কাঁধে এক বিশাল দায়িত্ব এসে পড়েছে।

সম্ভাবনার সাথে বড় চ্যালেঞ্জ

রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান মানেই শুধু স্লোগান বা প্রতিচ্ছবি নয়, বরং গণতান্ত্রিক সহনশীলতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার চর্চা। এনসিপির নেতারা বারবার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রের সেতুবন্ধন দৃঢ় করা এই নতুন কমিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে এনসিপির নতুন নেতৃত্ব কতটা মুন্সিয়ানা দেখাতে পারে—তার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ।

শেষ কথা

নতুন কমিটির প্রতিটি সদস্যের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা থাকবে—তারা যেন ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন না হয়ে জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের রক্তে ভেজা আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেন। পরিচ্ছন্ন, জনমুখী ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে তারা এ দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন—এই শুভকামনা রইল। নবগঠিত কমিটির সকল পর্যায়ের নেতাকে জানাই লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।

দৈনিক জনকথা

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


নতুন রাজনৈতিক ধারার অঙ্গীকার: জাতীয় নাগরিক পার্টির নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে শুভেচ্ছা ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা / নিজস্ব মতামত

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নতুন রাজনৈতিক ধারার অঙ্গীকার: জাতীয় নাগরিক পার্টির নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে শুভেচ্ছা


 ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা / নিজস্ব মতামত

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন আঙ্গিকে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করতে যাচ্ছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত এই তরুণ নেতৃত্বনির্ভর রাজনৈতিক শক্তির নবগঠিত ও পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।


নতুন নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস ও প্রত্যাশা


দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে বহাল রেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সারজিস আলমকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংহত করতে বিভিন্ন সাংগঠনিক উপকমিটি ও বিশেষায়িত সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জুলাইয়ের রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এ দেশের তরুণ সমাজ যে 'দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র' ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখেছে, তার কাণ্ডারী হিসেবে এনসিপির এই নতুন কমিটির কাঁধে এক বিশাল দায়িত্ব এসে পড়েছে।


সম্ভাবনার সাথে বড় চ্যালেঞ্জ


রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান মানেই শুধু স্লোগান বা প্রতিচ্ছবি নয়, বরং গণতান্ত্রিক সহনশীলতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার চর্চা। এনসিপির নেতারা বারবার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রের সেতুবন্ধন দৃঢ় করা এই নতুন কমিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে এনসিপির নতুন নেতৃত্ব কতটা মুন্সিয়ানা দেখাতে পারে—তার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ।


শেষ কথা


নতুন কমিটির প্রতিটি সদস্যের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা থাকবে—তারা যেন ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন না হয়ে জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের রক্তে ভেজা আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেন। পরিচ্ছন্ন, জনমুখী ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে তারা এ দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন—এই শুভকামনা রইল। নবগঠিত কমিটির সকল পর্যায়ের নেতাকে জানাই লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।




দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
নতুন রাজনৈতিক ধারার অঙ্গীকার: জাতীয় নাগরিক পার্টির নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে শুভেচ্ছা ওয়াদুদ খন্দকার, দৈনিক জনকথা / নিজস্ব মতামত
0:00 0:00
1.0x