সৌদিতে ৩ প্রবাসীর মৃত্যু: গাজীপুরের কালীগঞ্জে শোকের ছায়া, কর্মস্থলে অনন্য মানবিকতা ডেস্ক রিপোর্ট: উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন তাঁরা। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—কঠোর পরিশ্রমে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে তাদের সেই স্বপ্ন আজ নিভে গেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৃথক দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তিন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন সড়ক দুর্ঘটনায় এবং একজন কর্মস্থলে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসীর মৃত্যুগত ১৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে রিয়াদে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের দুই বাসিন্দা। নিহতরা হলেন—ধনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত আহসান উল্লাহ খন্দকারের ছেলে আলমগীর খন্দকার (৪৪) এবং একই ইউনিয়নের ধনপুর ফকিরপাড়া এলাকার মৃত রশিদ ফকিরের ছেলে ফরহাদ ফকির (৩৫)।পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেদিন কর্মস্থল থেকে একসঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন আলমগীর ও ফরহাদ। পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। বর্তমানে তাঁদের মরদেহ রিয়াদের সুমোসি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। হঠাৎ একই গ্রামের দুই তরতাজা প্রাণ ঝরে পড়ার খবর এলাকায় পৌঁছালে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন আব্দুল্লাহসড়ক দুর্ঘটনার এই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই রিয়াদে ঘটে যায় আরেক মর্মান্তিক ঘটনা। ২৪ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে এক সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন কালীগঞ্জ পৌর এলাকার দুprocessingবাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে মো. আব্দুল্লাহ।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর ধরে রিয়াদের 'আব্দুল লতিফ কোম্পানি'তে কর্মরত ছিলেন আব্দুল্লাহ। মাত্র এক মাস আগেই তিনি দেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে সৌদি আরবে ফিরে গিয়েছিলেন। ২৪ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে হঠাৎ একটি বিষাক্ত কেমিক্যাল দূষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় এক সহকর্মী বিপদে পড়লে আব্দুল্লাহ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান। কিন্তু বিষাক্ত কেমিক্যালের সংস্পর্শে আসায় সহকর্মীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি, উল্টো আব্দুল্লাহসহ আরও তিনজন বিদেশী নাগরিক সেখানে মারা যান। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে সহকর্মীকে বাঁচাতে যাওয়ার এই অনন্য মানবিক বীরত্ব আজ সবাইকে কাঁদিয়েছে।পরিবারে আহাজারি ও মরদেহ ফেরানোর আকুতিমাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে কালীগঞ্জ উপজেলার তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে চলছে মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। নিহতদের পরিবারগুলো এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে প্রিয়জনদের মরদেহের অপেক্ষায়।শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে, যাতে শেষবারের মতো প্রিয় মুখগুলো দেখে নিজ দেশে তাদের সমাহিত করা যায়।