ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক জনকথা

টিকটক ও কিশোর সুরক্ষা: বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি



টিকটক ও কিশোর সুরক্ষা: বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি

টিকটক ও কিশোর সুরক্ষা: বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি

কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার অভিযোগে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মেটার (ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) পর এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবাংমা অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে হওয়া একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে রাজি হয়েছে। 

সমঝোতার মূল শর্ত ও বিধিনিষেধ

আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতা অনুযায়ী টিকটক বেশ কিছু নতুন এবং কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে:

ব্যবহারের সময়সীমা: কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রতিদিন অ্যাপ ব্যবহারের সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই ঘণ্টা। 

রাতের কার্ফু: রাত ১২টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টে অ্যাপটির ব্যবহার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সীমিত বা বন্ধ থাকবে। এছাড়া অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোর অনুরূপ পদক্ষেপ নেওয়ার সাপেক্ষে এই সময়সীমা রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বাড়ানোর শর্তও রাখা হয়েছে। 

স্কুল সময়ে নোটিফিকেশন বন্ধ: স্কুল চলাকালীন সময়ে তরুণ ব্যবহারকারীদের বিক্ষিপ্ত হওয়া রোধ করতে নোটিফিকেশন পাঠানো সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। 

কনটেন্ট ও ফিল্টার নিয়ন্ত্রণ: অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য বিউটি বা কসমেটিক ফিল্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং নন-পারসোনালাইজড বা সাধারণ কনটেন্ট ফিড চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে। 

আর্থিক সমঝোতা: এই চুক্তির অংশ হিসেবে টিকটক আলাবামাকে ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রমের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ কোটি ডলার প্রদান করবে, যা অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। 

কেন এই উদ্যোগ জরুরি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ঘুমের ব্যাঘাত, মনোযোগের অভাব, উদ্বেগ এবং মানসিক অবসাদের মতো সমস্যা বাড়ছে। টিকটকের মতো অ্যালগরিদম-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীকে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখতে ডিজাইন করা হয়। রাত গভীর পর্যন্ত অ্যাপ ব্যবহারের এই প্রবণতা রোধ করা গেলে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে এর প্রভাব

মেটার পথ ধরে টিকটকের এই সমঝোতা প্রমাণ করে যে টেক জায়ান্টগুলোর ওপর এখন স্থানীয় সরকার ও অভিভাবক মহলের চাপ অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ ও সমঝোতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বজুড়ে শিশু ও কিশোর সুরক্ষায় অন্যান্য দেশের নীতিনির্ধারকদেরও আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে উৎসাহিত করবে।

দৈনিক জনকথা

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


টিকটক ও কিশোর সুরক্ষা: বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

টিকটক ও কিশোর সুরক্ষা: বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি

কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার অভিযোগে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মেটার (ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) পর এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবাংমা অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে হওয়া একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে রাজি হয়েছে। 

সমঝোতার মূল শর্ত ও বিধিনিষেধ

আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতা অনুযায়ী টিকটক বেশ কিছু নতুন এবং কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে:

ব্যবহারের সময়সীমা: কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রতিদিন অ্যাপ ব্যবহারের সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই ঘণ্টা। 

রাতের কার্ফু: রাত ১২টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টে অ্যাপটির ব্যবহার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সীমিত বা বন্ধ থাকবে। এছাড়া অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোর অনুরূপ পদক্ষেপ নেওয়ার সাপেক্ষে এই সময়সীমা রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বাড়ানোর শর্তও রাখা হয়েছে। 

স্কুল সময়ে নোটিফিকেশন বন্ধ: স্কুল চলাকালীন সময়ে তরুণ ব্যবহারকারীদের বিক্ষিপ্ত হওয়া রোধ করতে নোটিফিকেশন পাঠানো সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। 

কনটেন্ট ও ফিল্টার নিয়ন্ত্রণ: অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য বিউটি বা কসমেটিক ফিল্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং নন-পারসোনালাইজড বা সাধারণ কনটেন্ট ফিড চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে। 

আর্থিক সমঝোতা: এই চুক্তির অংশ হিসেবে টিকটক আলাবামাকে ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রমের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ কোটি ডলার প্রদান করবে, যা অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। 

কেন এই উদ্যোগ জরুরি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ঘুমের ব্যাঘাত, মনোযোগের অভাব, উদ্বেগ এবং মানসিক অবসাদের মতো সমস্যা বাড়ছে। টিকটকের মতো অ্যালগরিদম-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীকে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখতে ডিজাইন করা হয়। রাত গভীর পর্যন্ত অ্যাপ ব্যবহারের এই প্রবণতা রোধ করা গেলে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে এর প্রভাব

মেটার পথ ধরে টিকটকের এই সমঝোতা প্রমাণ করে যে টেক জায়ান্টগুলোর ওপর এখন স্থানীয় সরকার ও অভিভাবক মহলের চাপ অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ ও সমঝোতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বজুড়ে শিশু ও কিশোর সুরক্ষায় অন্যান্য দেশের নীতিনির্ধারকদেরও আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে উৎসাহিত করবে।



দৈনিক জনকথা

সম্পাদক ও প্রকাশক: ওয়াদুদ খন্দকার
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক জনকথা
টিকটক ও কিশোর সুরক্ষা: বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি
0:00 0:00
1.0x